sliderখেলাশিরোনাম

এবার ফ্রান্সকে হারানোর পালা মরক্কোর

রফিকুল হায়দার ফরহাদ : কেউ কি কল্পনাতে রেখেছিল সেমিফাইনালে খেলবে মরক্কো। ১৯৭৬ সালের পর নিজ মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট আফ্রিকান নেশনস কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড নেই। তারাই এবার এখন পর্যন্ত কাতার বিশ্বকাপের সেরা চার দলের একটি।
একের পর এক কৃর্তী গড়ে দলটি আজ ফাইনালের টিকিট পাওয়ার অপেক্ষায়। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আল বায়েত স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে হারাতে পারলেই হবে আরেক ইতিহাস। প্রথম আফ্রিকান, আরব এবং মুসলিম দেশ হিসেবে ঠাঁই করে নেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। আসরে টানা অপরাজিত থাকা, একের পর পর বিগ টিমকে নাকানি চোবানি খাওয়ানো দল তারা। তাই তাদের সমর্থনটা আজ বেশীই ফ্রান্সের তুলনায়।
তবে আবেগী পর্বের ইতি টানলে আজ সব দিকেই এগিয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তারকা আর ফিফা র‌্যাংকিং সবই ফরাসিদের দখলে। আর দুই দলের পারস্পরিক ম্যাচের অতীত রেকর্ড টানলে ভোটটা বেশই পড়বে হুলো লরিচ-কিলিয়ান এমবাপ্পেদের পক্ষে। কারণ এখন পর্যন্ত ফরাসিদের বিপক্ষে জয়ের কোনো রেকর্ড নেই মরোক্কানদের। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ফ্রান্স ৪ এবং মরক্কো ২২ নাম্বারে আছে।
দু’দল এ পর্যন্ত একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে সাতটি ম্যাচ। এর পাঁচটিতেই জয় দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। অপর দু’ম্যাচ ড্র। ২০০৭ সালের শেষ সাক্ষাতে উভয় দলের ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়েছে এটাই উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির বড় প্রেরণা। ২০০০ সালের হাসান দ্বিতীয় টুর্নামেন্টে ফ্রান্স ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আজকের সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষকে।
কাগুজে হিসেবে ফ্রান্স মরক্কোর বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে জিতলেও ফিফার নিয়মে এর দু’ম্যাচই ড্র বলে স্বীকৃত। কারণ ওই দুই ম্যাচে ইউরোপিয়ান দেশটির জয় এসেছিল টাইব্রেকারে।
১৯৭৫ সালের ভূমধ্যসাগরীয় গেমসের খেলা নির্ধারিত সময়ে ১-১ এ শেষ হওয়ার পর ফ্রান্স ৩-১ গোলে জয় পায় টাইব্রেকারে। ১৯৯৮ সালের কিং হাসান দ্বিতীয় কাপেও ফ্রান্সের জয় টাইব্রেকারে ৬-৫ গোলে। ২-২ এ খেলা শেষ হওয়ার পর এই পেনাল্টি শ্যুট আউটের আশ্রয় নেয়া হয়। এছাড়া ১৯৮৮ সালের চার জাতি ফুটবলে এবং ১৯৯৯ এর প্রীতি ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে তাদের জয় ছিল ২-১ ও ১-০ তে।
ফরাসিদের বিপক্ষে অন্য সব আফ্রিকান দেশের মতো মরক্কোরও আজ প্রতিশাধ নেবার মিশন। উনিশ শতকে পুরো উত্তর পশ্চিম আফ্রিকা দখল করে নেয় ফ্রান্স। বাদ যায়নি মুসলিম দেশ মরক্কোও। ফরাসী সৈনিকদের হাতে প্রাণ হারায় হাজার হাজার মরোক্কান। দেশান্তরিও হয়েছেন হাজার হাজার মুসলিম।
এই বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া সেই দখলদারিত্ব আর হত্যাযজ্ঞের বদলা নিয়েছিল গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সকে ১-০ তে হারিয়ে। যেমনটা সেনেগাল করেছিল ২০০২ সালে আগের বারের বিশ্ব সেরা জিদানের দলকে পরাজয়ের গ্লানিতে ডুবিয়ে। আজ মরক্কোর পালা। পারবে কি ওয়ালিদ রেগরিগির দল দিদিয়ের দেশ্যামস- এর দলকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাবচ্যুত করতে।
উল্লেখ্য, ১৯০৪ সাল থেকে মরক্কো দখল শুরু ফ্রান্সের। ব্যাপক প্রতিরোধ ও দাঙ্গার পর ১৯৫৬ সালে মরক্কো ছাড়তে বাধ্য হয় ফরাসীরা। তবে এই ম্যাচে মরক্কো পাচ্ছে না স্ট্রাইকার ওয়ালিদ চেদরিয়াকে। পর্তুগালের বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় আজ নিষিদ্ধ ইতালিয়ান দ্বিতীয় বিভাগের এই স্ট্রাইকার। সিরি ‘বি’ তে তার করা গোল ১২ ম্যাচে ৯টি।
এছারা চোটে আছে অধিনায়ক রোমেইন সেইস ও হাকিম জিয়াচের। দু’জনকেই তাই কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে পুরো সময় মাঠে রাখা হয়নি। রোনালদোদের বিপক্ষে খেলা হয়নি ওয়েস্ট হ্যামের ডিফেন্ডার নায়েফ অ্যাগুয়ার্ডের। ফলে সেইস এবং নায়েফ যদি ফিট না হন তাহলে সমস্যায় পড়ে যাবে মরক্কো। তবে পর্তুগালের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকা ইয়াহিয়া আতিয়াত ও জাওয়াদ এল ইয়ামিককে আজ খেলাতে পারেন কোচ।
মরক্কো দলে এই কার্ড আর ইনজুরি সমস্যা ভর করলেও ফরাসি টিমে এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লুকাস হার্নান্দেজ অ্যাংকেলে চোট পেলেও তার জায়গার তারই ভাই থিয়াও হার্নান্দেজ চমৎকার সার্ভিস দিয়েছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button