‘এক শ্রেণি লোকের কারণে শিক্ষকতা পেশায় মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এক শ্রেণি লোকের কারণে শিক্ষকতা পেশায় নৈতিক মূল্যবোধ ও সততা প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। তারা টাকার বিনিময়ে ও রমরমা কোচিং বাণিজ্য করতে সবসময় জড়িত থাকছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে। তাদের কারণে শিক্ষকতা পেশায় যে সম্মান রয়েছে তা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সেইসব শিক্ষককে আমরা সম্মান সূচক পদ থেকে ছাঁটাই করতে চাই। গত আট বছর চেষ্টা করছি এসব প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে। কিন্তু সারা রাত পাহারা দিয়ে যখন সকালে শিক্ষকদের হাতে প্রশ্নপত্র বুঝিয়ে বাসায় আসি তখন শুনি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে এবং ফাঁসকারীদের ধরতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ কিছুসংখ্যক শিক্ষকের জন্য পুরো শিক্ষক জাতির বদনাম হতে পারে না।’
রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্য অনুষদ মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ সব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা হল মূল আলো ও শক্তি। শিক্ষকদের মনে করতে হবে তারা নিবেদিত প্রাণ। কারণ জ্ঞান ও বুদ্ধি থাকলে শুধু হবে না আগে ভালো সৎ মানুষ হতে হবে। তাদের কথাই শিক্ষার্থীরা অনুসরণ করে। আর প্রকৃতি ধ্বংস করে কোন উন্নয়ন হতে পারে না। প্রকৃতি ধারণ করেই উন্নয়নের পথে হাঠতে হবে।’
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের একটা বড় অংশ তরুণসমাজ। দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রচলিত শিক্ষানীতি প্রণয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। এজন্য বিশ্বমানের শিক্ষা প্রয়োজন। তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দক্ষতা-জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চবি ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্টার ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সচিব সোহরাব হোসেন, চবি প্রো-ভিসি ড. শিরিন আখতার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. কামরুল হুদা ও বিভিন্ন অনুষদের ডিন প্রমুখ। বক্তব্য শেষে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ৩৩ শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর পদক দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারী ১৭ শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ১৬ জনকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক পদক।




