রাজনীতিশিরোনাম

একদিকে লুটপাট অন্যদিকে শ্রমিকদের আহাজারি : রিজভী

সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলো বন্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, মহামারি করোনা দুর্যোগের মাঝেও একদিকে চলছে সরকারের লুটপাট, অন্যদিকে চলছে বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিক ও কর্মহীন নিরন্ন মানুষের আহাজারি। কারণ এই সরকার কখনোই জনগণের উন্নয়নে কাজ করে না। তারা শুধু মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে নিজেদের লোকদের পকেট ভারী করতে অতি ব্যস্ত।
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঈদের আগে সব কারখানায় কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন বোনাস পরিশোধ, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলো খুলে দেয়া, সরকার ঘোষিত প্রণোদনার টাকা শ্রমিকদের প্রদান ও বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, নকল মাস্ক সরবরাহ, ভেন্টিলেটর ছাড়াই বিনা চিকিৎসায় দেয়ার নামটি হলো আওয়ামী লীগ সরকার। মহামারি দুর্যোগেও বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, সবজিসহ সব পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। তাহলে বুঝুন শ্রমিকের কী অবস্থা? গ্রামের মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। এই জন্যই আওয়ামী লীগ করোনার চেয়ে শক্তিশালী, যা তাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঠিকই বলেছেন।
তিনি বলেন, আজকে রাষ্ট্রায়ত্ব ২৬টি পাটকল বন্ধ করায় সেসব কারাখানার শ্রমিকদের বাঁচার কোনো অধিকার থাকলো না। তাদের এখন মানবেতর অবস্থা? মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানি বন্ধ। আজকে সরকারের একটি দফতরে একটি বটি কিনতে হচ্ছে ১০ হাজার টাকা, একটা চামচ ১ হাজার টাকা, ল্যাপটপ কিনতে দাম দেখিয়েছেন ২ লাখ টাকা। এভাবে জনগণের টাকা লুটে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তারা আসলেই করোনার চেয়ে দুর্নীতি আর লুটপাটে শক্তিশালী।
রিজভী বলেন, আজকে বিশ্বে সিনথেটিক বন্ধ হয়ে গেছে। সেটা পরিবেশের ক্ষতিকর। কিন্তু আমাদের পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এটা কেন করা হলো? উদ্দেশ্যে হলো লুটপাটের জন্য। অথচ পাট দিয়ে ২০০টি পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। যা বিশ্বে রফতানি করে বছরে বহু টাকা আয় করা সম্ভব। কিন্তু সরকারের নীল নকশা অনুযায়ী পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অসংখ্য মানুষ বেকার ও কর্মহীন হয়ে গেছে। অথচ সরকারের উচিত ছিল শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এগিয়ে আসা।
তিনি বলেন, সরকার কী শুধুই মহাজন, ধনী ও ব্যাবসায়ীদের জন্য? কলকারখানা বাঁচানোর জন্য সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। আমি অবিলম্বে কুরবানির ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধ করার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, আজকে একদিকে রিজেন্ট জেকেজির লুটপাট, অন্যদিকে সরকারের দুঃশাসন ও নিরন্ন মানুষের আহাজারি। আজকে কোথায় সরকারের উন্নয়ন? সামান্য বন্যায় ভেসে যায় গরিব মানুষের বাড়ি ঘর। ভেসে যায় গবাদি পশু ও ফসলের খেত। দেশের অধিকাংশ এলাকা বন্যায় তলিয়ে গেছে। আসলে সরকারের নজর উন্নয়নে নেই। তারা মেগা প্রজেক্ট করেছে শুধু লুটপাট আর দলীয় লোকদের পকেট ভারী করার জন্য।
রিজভী বলেন, আজকে মেয়র নির্বাচনের আগে কত কথা তো তারা বললো! কিন্তু ভোটের আগেরদিন তারা ভোট করে নিলো। সুতরাং তাদের দিয়ে কোনো উন্নয়ন আশা করা যায়। এই অবস্থা বেশি দিন চলতে পারে না। দলীয় নেতাকর্মীদেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান রিজভী।
সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহশ্রমবিষয়ক হুমায়ূন কবির খান, ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা, মেহেদী আলী খান, মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, মফিদুল ইসলাম মোহন, জুলফিকার মতিন সুমন ভুইয়া, আলহাজ্ব উদ্দিন প্রমুখ। এসময় স্বেচ্ছেসেবক দলের মোর্শেদ আলম সহ শ্রমিকদলের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button