Uncategorized

একটি শোষণহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতেন মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা

জুরাছড়িতে স্মরণ সভায়
নিজস্ব প্রতিনিধি, জুরাছড়ি : একটি শোষণহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতের মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা। যেখানে পাহাড়ী-বাঙালি সব নাগরিকের মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে বাচঁতে পারবে। গণপরিষদে বার বার দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি, প্রকৃতির প্রতি ভালবাসার কথা তিনি বলেছেন। কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক, নৌকার মাঝি, নারীর অধিকারসহ সব ধরনের অধিকারের কথা বলেছেন মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা।
শুক্রবার জুরাছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চুক্তি বিরোধী জুম্মস্বার্থ পরিপস্থী সকল কার্যক্রম প্রতিরোধ করুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে অধিকতর আন্দোলন সংগঠিত করুন। এ ¯েøাগানকে সামনে রেখে সাবেক সংসদ ও জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানেবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৮৩তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন।
জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রিয় সদস্য উদয়ন ত্রিপুরা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের সংবিধান জাতিধর্ম-নির্বিশেষে বাংলাদেশের আপামর জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং সব ধরণের জাতিগত-শ্রেণীগত নিপীড়ন, শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটাবে। কিন্ত এম এন লারমার তাঁর সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি।
তিনি আরো বলেন, মানেবেন্দ্র নারায়ন লারমা আশা করেছিলেন, জাতিগত নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ী বাঙালি নেতৃত্ব জুম্ম জাতির শত বছরের বেদনা বুঝবেন। তারই আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি গণপরিষদে বারবার আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে ধরেন। কিন্ত সংসদ ও সংবিধান প্রণয়নকারীরা তাঁর দাবি আসল মর্মার্থ না বুঝতে পেরে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষ বসত ভিটা হারিয়ে সর্বহারা জীবন যাপন করছে। সর্বশেষ লংগুদুর সাম্প্রদায়িক অগ্নিসংযোগের ভূমি আগ্রাসনের ষরযন্ত্র করছে। যথা দ্রæত চুক্তি বাস্তবায়ন করা না হলে পার্বত্য এলাকার বিরূপ পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে বলে সভায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
সাবেক সংসদ ও জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানেবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৮৩তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভোরে প্রভাত ফেরী ও উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মানেবেন্দ্র নারায়ন লারমা অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পনে বিনম্্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল ১০টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে শোক বার্তা পাঠে মধ্যে দিয়ে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় জুরাছড়ি উপজেলা শাখা জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র নেতা সুমিত চাকমার ধারা সঞ্চলনায় সভাপতি মায়া চান চাকমা সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য উদয়ন ত্রিপুরা, বিশেষ অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা, জেলা জনসংহতি সমিতির ভূমি ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রনজিৎ দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুধন চাকমা, এড়াইছড়ি মৌজার হেডম্যান রিতেশ চাকমাসহ উপজেলার গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা, হেডম্যান করুনা ময় চাকমা, আদিবাসী ফোরামের নেতা সুরেশ কুমার চাকমা, উপজেলা যুব সমিতির সভাপতি সুজিত চাকমা প্রমূখ।
সভায় সাবেক সংসদ ও জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানেবেন্দ্র নারায়ন লারমা ও অন্দোলনকালীন সময়ে শাহাদাত বরণকারীদের স্মরণে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়।
উল্লেখ্য এম এন লারমা ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর জনসংহতি সমিতির বিভেদপস্থী অংশের হাতে আট সহযোদ্ধাসহ খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি গভীর জঙ্গলের এক গোপন আস্তানায় তিনি নিহত হন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button