Uncategorized

একজন আব্দুল বাছির, উত্তর সিলেটের সুর্য সন্তান

আকবর রেদওয়ান মনা,কোম্পানীগঞ্জ : দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ, হযরত শাহজালাল শাহপরান (রঃ) এর স্মৃতি বিজড়িত ৩৬০ আউলিয়ার শহর বাংলার আধ্যাত্মিক রাজধানী পূণ্যভুমি সিলেট জেলার আওতাধীন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী পাড়ুয়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করেন।সেই শিশুটিই আজ এই অঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি, গণমানুষের অতি কাছের মানুষ,গরিব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের পরম বন্ধু।জনপ্রিয় সালিশ ব্যক্তিত্ব, উত্তর সিলেটের সুর্য সন্তান সর্বজন শ্রদ্ধেয় বয়োবৃদ্ধ প্রবীণ মুরব্বি আলহাজ্ব আব্দুল বাছির।
যিনি নীতি-নৈতিকতায় সবসময় অটল। সাধারণ জনগণ তার পরম আত্মার আত্মীয়। এ জন্যই তিনি জয় করেছেন তাদের মন।বৃদ্ধ বয়সে এসেও যার জনপ্রিয়তা কোনো অংশেই কমনয়। যার কারনে তিনি বার বার এলাকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি বার্ধক্যজনিত কারনে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। হয়তো আগের মতো শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো নেই।কিন্তু মানব সেবার জন্য এখনো তিনি এই বয়সেও উত্তর সিলেটের সর্বস্তরের জনসাধারণের মনের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে মানুষ মরণশীল হলেও কর্মগুণে সকলের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকেন। সংক্ষিপ্ত মানবজীবনকে অনন্তকাল বাঁচিয়ে রাখতে হলে তথা স্মরণীয়-বরণীয় করে রাখতে হলে কল্যাণকর কর্মের কোনো বিকল্প নেই।
কীর্তিমান তারা যারা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ ধরে। এ পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা বড় কথা নয়, কর্ম তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে সাধারণ মানুষের অন্তরে । এসব লোকের দৈহিক মৃত্যু হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা সর্বদাই তারা মানবের অন্তরে বিরাজ করেন। মানুষ তাঁদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
তেমনিভাবে আব্দুল বাছির সত্যিকারের একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক।
যেসব গুণ থাকলে আদর্শবান নেতা হওয়া উচিত তার সবই রয়েছে তার মধ্যে । তিনি আপাদমস্তক একজন দেশপ্রেমিক।
সাধারণ মানুষের সাথে ভ্রাতৃত্ববোধ অক্ষুন্ন রাখা এবং এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি সব সময় সোচ্চার থাকতেন।
ব্যক্তি আব্দুল বাছির খুব বেশি লেখাপড়া না করলেও তার আধ্যাত্মিক জ্ঞান রয়েছে খুব বেশি। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করা, তার সম্পর্কে বলার যোগ্যতা আমার নেই। কিন্তু তার সঙ্গে থেকে তাকে নিবিড়ভাবে দেখেছি, যা কিছু শিখেছি, দেখেছি তা আমাকে অভিভূত করেছে। বিশাল হৃদয়ের অধিকারী এ জননেতা সব মানুষের বিপদে-আপদে দরদি হৃদয় নিয়ে এগিয়ে আসতেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। দলের দুঃসময়ে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে তার সরব উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণ সঞ্চার করতো।
আব্দুল বাছির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৩২ সালে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শুকুর উল্লাহ,তৎকালীন বৃহত্তর পাড়ুয়া পরগণার হাজী বয়েত উল্যার আপন ছোট ভাই ছমেদ মোড়লের মেয়ে ফুলজান বিবির ঘরে তার জন্ম।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ২টি বিয়ে করেন।
ছমেদ মোড়লের ছেলে আলী আহমদের মেয়ে সমরুন নেছা মামাতো বোনের সাথে প্রথম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।দ্বিতীয় বিয়ে করেন গৌরিনগর গ্রামের ইরফান আলীর মেয়ে আনোয়ারা বেগমকে।৭ ছেলে ও ৫ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রয়েছে তার। সিলেট মডেল হাইস্কুল থেকে তিনি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।তার প্রৈতৃক নিবাস দলইরগাঁও গ্রামে।বর্তমানে পাড়ুয়া মাঝপাড়া গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পীকার মরহুম হুমায়ুন রশীদের হাত ধরে মূলত রাজনীতিতে আসা।এর পর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
স্বাধীনতার পর ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। আলহাজ্ব আব্দুল বাছির শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন তিনি একজন সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষাবিদ।
উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে রয়েছে তার বিশেষ অবদান।প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থা মসজিদ, মাদ্রাসা,বিদ্যালয় ও ভবন উন্নয়নে তার ভূমিকা রয়েছে অতুলনীয়। তিনি বিশ্বাস করেন তার সমাজ উন্নয়নের মূল চাবি কাঠি হলো শিক্ষা।
তিনি মনে করেন যদি তার সমাজ এবং এলাকার জনগণ শিক্ষিত হয় তবে তারা কোনোদিনও হাল হারাবেনা।তারাই তাদের সঠিক পথ বেছে নিতে পারবে। সে জন্য তিনি তার সমাজের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । তিনি তার সমাজের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেন।
কোম্পানীগঞ্জ এম সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের দাতা সদস্য তিনি । এছাড়া পাড়ুয়া আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভুমিকা ও বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন । পাড়ুয়া ফোরকানিয়া হাফিযিয়া মাদ্রাসা নির্মাণ,ঐতিহ্যবাহী পাড়ুয়া শাহী ঈদগাহ নির্মাণ,পাড়ুয়া নোয়াগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত ও স্পীকারের সহযোগিতায় ভবন নির্মাণ, জামিউল উলূম নুরীয়া পাড়ুয়া বটেরতল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় ভুমিকা ,বাবুল নগর জামে মসজিদ নির্মাণ,পাড়ুয়া শাখা ডাকঘর, ইউনিয়ন ভুমি অফিস, পাড়ুয়া ভোলাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণে ভুমিকা , ইমরান আহমদ কারিগরি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠায় ভুমিকা রাখাসহ অসংখ্য শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখায় তাকে উপজেলার রুপকার ও কোম্পানীগঞ্জ রত্নও বলা হয়।
আব্দুল বাছির রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি পারিবারিক ও সমাজ জীবনে আচার-আচরণ অনুকরণীয়। তার কাছে রাজনীতি হলো বৃহত্তর মানবকল্যাণের মাধ্যম। মমত্ববোধ, মৈত্রী ও সমঝোতার অন্বেষণে তার প্রয়াস অক্লান্ত। সাংঘর্ষিক ও সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছিল দৃঢ় অথচ নম্র ও শান্ত। বিগত সময়ে কোম্পানীগঞ্জের যত রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা ছিলো তিনি নিজ হাতে সেটির সমাধান করেছেন। দল মত নির্বিশেষে সকলের কাছে তিনি আস্থাভাজন হওয়ার কারণে জীবনের শেষ সময়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
শুধু ব্যক্তি আব্দুল বাছির নয়, তার উত্তরসূরী হিসাবে পুরো পরিবারের সবাই যেন জনপ্রতিনিধি,মানব কল্যাণে যারা সবসময় সোচ্চার ,তার এক ছেলে জয়নাল আবেদীন সিলেট জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান,অন্য ছেলে শামীম আহমদ শামীম বর্তমান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। বলতে গেলে পুরো পরিবারটাই যেন একটা জনপ্রতিনিধির মঞ্চ।
সামাজিক রাজনীতির পাশাপাশি ধর্মীয় জীবনেও তিনি যথেষ্ট সক্রিয়। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন কারণে তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতে হয়।ব্যক্তি আব্দুল বাছির এই বয়সেও নামাজ শেষ করে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াতসহ ধর্মীয় মনোনিবেশ করতে তাকে দেখা যায়।বর্তমানে তিনি বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন,আগের মতো চলাফেরা করতে পারছেননা।
তার মতো একজন মহান ব্যক্তি পেয়ে সত্যি ধন্য কোম্পানীগঞ্জবাসী।তার এই সোনালী ও কর্মময় জীবন সম্পর্কে লিখতে গেলে হয়তো লেখা শেষ করা যাবেনা। কিন্তু তিনি তার কর্মের মাধ্যমে এই অঞ্চলের আপামর জনতার মন জয় করে নিয়েছেন।
পরিশেষে সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পবিত্র দরবারে আব্দুল বাছির ও তার পরিবারসহ দেশবাসীর জন্য প্রাণভরে দোয়া করছি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে যেন ক্ষমা, সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত দান করেন, আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button