উপমহাদেশশিরোনাম

একই আসরে দুই তরুণীকে বিয়ের মতলব! কী হলো ‘গুণধর’ পাত্রর?

একজনই পাওয়া যায় না, আবার একসাথে দুজন! যেকোনো পুরুষ খবরটা শুনলে হয়তো এরকমই প্রতিক্রিয়া দেবেন। তবে এনার কাছে বোধহয় সোনায় সোহাগার মতো হতে যাচ্ছিল গোটা ব্যাপারটা। একই অনুষ্ঠানে দুজনকে বিয়ে করতে চলেছিলেন এই ব্যক্তি। একই দিনে, আমন্ত্রিতদের সামনেই দুই মেয়ের বাড়ি সম্মত হয়েছিল ৩১ বছরের রামামুর্তির সঙ্গে তাদের মেয়েদের বিয়ে দিতে। কারণ কি জানেন, বয়স হচ্ছে। এরপর মেয়েদের জন্য পাত্র মিলবে কোথায়?
পাত্র মিলল। শুধু একটাই সমস্যা, মেয়ের সংসারে থাকবে তার সতীনও। কুছ পরোয়া নেই। সম্মান তো বাঁচল। খানিকটা এরকম মনোভাব নিয়েই দুই পাত্রীর পরিবার তাদের মেয়েদের তুলে দিচ্ছিল এই ব্যক্তির হাতে। সেই সুযোগে পাত্রও ভালো দাঁও মেরে নিতে চাইচিল। তবে বাদ সাধল প্রশাসন। পাত্র বাবাজির অবস্থান এখন শ্রীঘরে। আর মেয়েদের অভিভাবকদের তলব করেছে পুলিশ।
পেশায় পশুপালক রামামুর্তি তামিলনাড়ুর ভেল্লিইয়াপুরমের বাসিন্দা। থাকেন নিজের বোন, কালাইসেলভির সঙ্গে। কালাইসেলভির কাছ থেকেই তার মেয়ে রেণুকা দেবীকে বিয়ে করার প্রস্তাব আসে রামামুর্তির কাছে। সম্মতও হয়ে যায় সে। তবে সম্মত হলেও, হয়তো মন ভরেনি। সন্তুষ্টও হয়নি। আরেক মহিলাকে বিয়ে করতে উদ্যত হয় রামামুর্তি। আশ্চর্যজনকভাবে, এই উদ্ভট প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যায় কালাইসেলভি ও তার পরিবার। এবার বিয়ে ঠিক হয় আমুধাভালি নামে এক ব্যক্তির কন্যা বছর কুড়ির গায়ত্রীকে। রেণুকা ও গায়ত্রীকে একই অনুষ্ঠানে বিয়ে করার উদ্যোগ নেয় রামামুর্তি। আপত্তি ছিল না কোনও তরফেই।
নিয়ম করে কার্ড ছাপানো হলো। পৌঁছেও গেল তা আমন্ত্রিতদের কাছে। সমস্যা হলো সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে। এই কার্ড রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেল সোশ্যাল মিডিয়ায়। খবরটা কানে পৌঁছল প্রশাসনের। তারপর, যা হওয়ার তাই হলো। ৪ সেপ্টেম্বর বিয়ের আগেই বর বাবাজি শ্রীঘরে। বিরুধুনগর জেলার সমাজকর্মীই প্রথম বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন। দ্বারস্থ হন পুলিশের। মেয়েদের অভিভাবকদের ডেকে পাঠানো হয়।
এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না গায়ত্রী। এই অপরাধের জন্য এখন পুলিশের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনো রামামুর্তিকে বিয়ের স্বপ্ন দেখছেন রেণুকা দেবী। যদিও, পুলিশের কল্যাণে আপাতত তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button