
মারুফ হাসান বিশাল : জাতীয় রাজনীতির জন্য আগামী ৬মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। যা শুরু হয়ে গেছে ঈদের তৃতীয় দিন ১জুলাই থেকেই। জুলাই থেকে ডিসেম্বর এই ৬মাস রাজনীতির মাঠে-ময়দানে নানান খেলা আমরা দেখতে পাবো এটাই স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক কি ঘটে বা ঘটবে এটা নিয়েই আমাদের কৌতুহল।
প্রায় সাড়ে ৪বছর ধরে আমরা বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলো থেকে বিশেষ করে বিএনপির নেতাদের মুখে ‘ঈদের পর আন্দোলন’ এই শব্দ গুলো বহুবার শুনেছি। বিএনপির ‘ঈদের পর আন্দোলন’ এমন বক্তব্য শুনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হাস্যরসাত্মক ভাবে কোন ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন এমনটা বহুবার জানতে চেয়েছে। কিন্তু বিএনপি সদুত্তর দিতে পারেনি। কারণ সদুত্তর মুখে নয় বিএনপিকে ঈদের পর আন্দোলন করে দেখাতে হতো; যা বিএনপি পারেনি। ঈদের পর আন্দোলন এমন বক্তব্য শুনলে শুধু সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রীরা নয় মাঠের বিরোধী দলের লোকজনও এখন হাসাহাসি করে। তবে ঈদের পর আন্দোলন মানেই যে আজ ঈদ শেষ হলো আগামীকাল থেকেই আন্দোলন শুরু বিষয়টা কিন্তু এমন নয়।
রাজনীতিতে এবারের ‘কোরবানির ঈদের পর’ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারাণ এই ঈদের পরের ৬মাস দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের ৬মাস। এই ৬মাস খুব হিসাবনিকাশের রাজনীতি চলবে।
আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক সংসট নিরসনে এই জুলাই মাসেই ঢাকা সফরে আসবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। যারা আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা করে সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করবে। নির্বাচনের পরিবেশ ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুসন্ধানী টিমও আসবে এই জুলাই মাসে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুসন্ধানী টিম আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পক্ষের সাথে মতবিনিময় করবে এবং দেশের রাজনীতির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখবে যে আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচনে বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর পরিবেশ আছে কিনা৷ যদি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ থাকে এবং নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হয় তালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। বিএনপি তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না আর আওয়ামী লীগ সংবিধানের কথা বলে তত্বাবধায়ক মানবে না৷ বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যস্থতায় সংকট কতটুকু সমাধান হবে তা এখন দেখার অপেক্ষায়।
এই জুলাই মাসে বিএনপি সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। রাষ্ট্র সংস্কারের যৌথ রুপরেখাও জাতির সামনে তুলে ধরবে বিএনপিসহ বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলো। আওয়ামী লীগও মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা করবে। এতে রাজনীতির মাঠ গরম হতে শুরু করবে।
আওয়ামী লীগ সূত্রের ভাষ্য, বিএনপি আন্দোলনের নামে সহিংসতা করলে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে সেটা মোকাবিলা করবে। আর বিএনপি সুত্রের ভাষ্য, বিএনপি এবার হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে না গিয়ে শান্তি সমাবেশ, মিছিল,মানববন্ধন, চলচল ঢাকা চল এমন কর্মসূচি দিয়ে মাঠ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করে, বিএনপি বিদেশিদের দেখাতে চাইবে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারি দলের বাঁধা আসলে তখন আওয়ামী লীগের উপর বিদেশিদের চাপও বাড়বে।
দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দেশের রাজনীতির মাঠ দিনকে দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলেরই বেশকিছু চ্যালেঞ্জ থাকবে। বিএনপি আন্দোলন শুরু করলে দেশকে স্থিতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ থাকবে সরকারের। প্রশাসনের বাঁধা উপেক্ষা করে একদফা আন্দোলন করা বিএনপির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। এই ৬মাসে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বাড়বে। এতে বিএনপির লাভ হবে তবে চ্যালেঞ্জ থাকবে জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ-বিএনপির এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই চলতে থাকবে রাজনীতির বিভিন্ন মেরুকরণ।
মারুফ হাসান বিশাল: শিক্ষার্থী ও তরুণ সংবাদকর্মী




