ইলিশের দাম কেন এতো বেশি! মাছের সংকট নাকি সিন্ডিকেট?

সাজ্জাদুল ইসলাম, রামগঞ্জ প্রতিনিধি :রুপালী ইলিশ মাছ, তার স্বাদ, আকৃতি এবং দাম বাংলাদেশে বৃষ্টির মৌসুমে আলোচনার বিষয়। ক্রেতারা বলছেন, এই প্রিয় মাছটি আগের চেয়ে বেশ চড়া দামে কিনতে হচ্ছে।
যেখানে ইলিশের ভরা মৌসুম জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ ৯০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
গত বছর একই সময় একই আকৃতির ইলিশের দাম ছিল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন ইলিশের মংস্যঘাট ঘুরে জেলে ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে ৮টি কারনে ইলিশ মাছের দাম এতো বেশি।
লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট ঘাটের জেলেরা বলেন, মেঘনা চর জাগার কারনে ইলিশ মাছ তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। গত বছরের চেয়ে এই বছর জ্বালানি তেলের দাম এবং মাছ ধরার সকল উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া ইলিশ মাছের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের অন্তত ছয়টি চোরা ফাঁদ আছে, যেখানে হাত বদল হলেই দাম বেড়ে যায়।
মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সমুদ্রগামী ট্রলারগুলোর জ্বালানি, পরিচালনা, জেলেদের খোরাকি ব্যয়, বরফ, মজুরি মিলিয়ে ব্যয় বেড়েছে ৭০ শতাংশ। ফলে আহরিত মাছ বিক্রি করে ব্যয় তুলে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘাটের ব্যবসায়ীরা বলেন মৌসুমের একটা বড় সময় এবছর কম বৃষ্টি হয়েছে।ড্রেজিং-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র। ড্রেজারের ব্যবহৃত মোবিল ও তেলের কারণে এবং প্রপেলারের আঘাতে মাছের খাদ্য নষ্ট হচ্ছে।
ফেসবুকে বিক্রির কারণে ইলিশের চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে যার ফলে বেড়েছে দাম এমনটাই মনে করছেন ক্রেতারা।
বর্তমানে জেলেদের সবচেয়ে বড় বাধা বিশেষ গোষ্ঠীদের কাছে বাধ্য হয়ে নগদ অর্থ,বিকাশ ও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা প্রদান করা। কিন্তু কারা এই টাকা নিচ্ছে এই বিষয়ে নিরাপত্তার কথা ভেবে কেউ বলতে চায় না।
মৎস্য অভিযানের সময় প্রসাশন কারেন্ট জালের উপর নজর না দিয়ে বাঁধা জাল ও বিন্দি জালের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করলে ইলিশ মাছের পোনা অবলিলা বাড়তে থাকবে।
এবং মাছের উৎপাদন কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন জেলেরা।



