ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩ জন নিহত

ইন্দোনেশিয়ার একটি জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আজ রোববার ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশসন বিভাগ জানিয়েছে, ৬ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্প সকালের দিকে পর্যটন এলাকা লমবক দ্বীপে আঘাত আনে। তখন অধিকাংশ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন।
লমবকের সেনগিগির কাছে প্যানকেক হোটেলে ঘুমাচ্ছিলেন জন-পল ভোলাকার্ট। ভূমিকম্প টের পেয়ে তিনি দ্রুত বিছানা ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন বলে সকালে বার্তা সংস্থা রয়টার্স থমসনকে জানান।
জন-পল ভোলাকার্ট বলেন, ‘উঠে আমি আশপাশে হাঁটাহাঁটি করছিলাম। কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখলাম না। কিন্তু হোটেলের সামনের সুইমিংপুলের পানি দুলছিল একেবারে সাগরের মতো। এটা ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত চলছিল।’
‘তবে গ্রামের লোকজনের বাড়িঘর হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। এখানে তো এখন অনেক সকাল,’ যোগ করেন এই পর্যটক।
ইউএস জিওলিজক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল লমবক দ্বীপের উত্তরাংশের মাতারাম শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে। এটি ছিল ভূমি থেকে ৪ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।
যেহেতু স্থলভাগে এই ভূমিকম্প হয়েছে, ফলে এর জন্য কোনো সুনামি সতর্কতা ছিল না। তবে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমিকোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫ মাত্রার।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন বিভাগের মুখপাত্র সুতোপো পুরো নুগোরহো ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ের একটি ছবি টুইট করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ভবনের ছাদ ও দেয়ালের একটি অংশ ধসে পড়েছে।
মুখপাত্র জানান, ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত লোকজন রাস্তায় ও খোলা মাঠে অবস্থান নেয়। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে উদ্ধারকাজ চালানো। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে আরো অন্তত ৪৩ বার ছোট ছোট কম্পন (আফটার শক) অনুভূত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। ছোট কম্পনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটি ছিল ৫ দশমিক ৭ মাত্রার।
ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বালি দ্বীপেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। পর্বতারোহীদের কাছে জনপ্রিয় পাশের রিনঝনি ন্যাশনাল পার্কেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিধসের আশঙ্কায় ভূমিকম্পের পর পরই পর্বতারোহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন বিভাগের মুখপাত্র সুতোপো পুরো নুগোরহো।
স্থানীয় মেট্রো টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পটি যখন প্রথম আঘাত আনে, তখন লোকজন ঘুমিয়ে ছিল। তারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। ভূমিকম্প-পরবর্তী ছোট ছোট কম্পনের শঙ্কায় তারা বাড়িঘরের বাইরে অপেক্ষা করছিল।
রয়টার্স/এনটিভি




