sliderউপমহাদেশশিরোনাম

‘ইন্ডিয়া’ নামের ভারতের বিরোধী জোটের আত্মপ্রকাশ

দক্ষিণ ভারতের ব্যাঙ্গালোরে কংগ্রেসসহ দেশের ২৬টি বিরোধী দলের নেতারা মিলে তাদের জোটের নাম ‘ইন্ডিয়া’ হবে বলে ঘোষণা করেছেন।

এই ‘ইন্ডিয়া’ শব্দটির পুরো কথাটা হল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স।

ব্যাঙ্গালোরে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর বৈঠকের দ্বিতীয় তথা শেষ দিনে মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিরোধী জোটের এই নামকরণ চূড়ান্ত করা হয়।

বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আলোচনায় কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীই প্রথম এই ‘ইন্ডিয়া’ নামটি সুপারিশ করেছিলেন।

বৈঠক শেষ হওয়ার পর বিকেলে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘এনডিএ আর বিজেপি- আপনাদের কি ক্ষমতা আছে আমাদের ইন্ডিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার?’

ওই সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, পাটনা ও ব্যাঙ্গলোরের পর বিরোধী দলগুলোর পরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে মুম্বাইতে।

সেখানে বিরোধী শিবিরের মধ্যে নানা বিষয়ে সমন্বয় স্থাপনের জন্য ১১ সদস্যকে নিয়ে একটি কো-অর্ডিনেশন কমিটিও গঠন করা হবে।

মঙ্গলবারের সাংবাদ সম্মেলনে খাড়গে ও মমতা ছাড়াও আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, শিবসেনার (উদ্ধব গোষ্ঠী) নেতা উদ্ধব ঠাকরে ও সাবেক কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীও ভাষণ দিয়েছেন।

মঞ্চে ছিলেন এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও।

তবে যে ২৬টি বিরোধী দল আলোচনায় অংশ নিয়েছিল, তার বেশ কয়েকটির নেতাকে ওই সভায় দেখা যায়নি। মল্লিকার্জুন খাড়গে দাবি করেন, ফেরার বিমান ধরার তাড়া ছিল বলেই কয়েকজন সেখানে থাকতে পারেননি।

তবে ‘ইন্ডিয়া’ নামের এই বিরোধী জোটের নেতা কে হবেন বা প্রধানমন্ত্রী পদে তাদের কোন একজন প্রার্থী থাকবেন কি-না এই প্রশ্ন বিরোধী নেতারা সবাই এড়িয়ে গিয়েছেন।

কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রিত্ব চায় না
তবে বৈঠকে মল্লিকার্জুন খাড়গে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দল (কংগ্রেস) প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য আদৌ উৎসুক নয়।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছিল, এর আগে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের যিনি চেয়ারপারসন ছিলেন, সেই সোনিয়া গান্ধীকে এই নতুন বিরোধী জোটেরও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও জেডি (ইউ) দলের নেতা নিতিশ কুমারকে জোটের আহ্বায়ক করা হতে পারে বলেও অনেকে ধারণা করছিল।

তবে এদিন শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, এখিই জোটের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সোনিয়া গান্ধীকে ঘোষণা করা হলে তা বিরোধীদের মধ্যে মতভেদ উসকে দিতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই সম্ভবত ‘ইন্ডিয়া’ জোট কোনো নেতার নাম ঘোষণা করেনি।

এর আগে গত মাসের ২৩ তারিখ বিহারের রাজধানী পাটনাতে জেডি (ইউ) দলের নেতা ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমারের ডাকে বিরোধী দলগুলো তাদের প্রথম বৈঠকে মিলিত হয়েছিল।

ব্যাঙ্গালোরে বিরোধী শিবিরের দু’দিনব্যাপী ওই বৈঠক ছিল তারই পরের পদক্ষেপ। তবে এবারের এই বৈঠকের মূল আহ্বায়ক দল ছিল কংগ্রেস।

রোববার থেকেই বিরোধী নেতা-নেত্রীরা ব্যাঙ্গালোরে জড়ো হতে শুরু করেছিলেন। সোমবার রাতে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার দেয়া নৈশভোজের মধ্যে দিয়েই ঘরোয়াভাবে তাদের আলোচনা শুরু হয়ে যায়।

দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধীও ওই নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে সেখানে অতিথিদের আপ্যায়নও করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই বৈঠকে যোগ দেয়া মোট ২৬টি দল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসে। যেখানে প্রস্তাবিত বিরোধী জোটের রূপরেখা এবং বিরোধী শিবিরের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ওই আলোচনাতেই বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বিকল্প হিসেবে বিরোধী জোটের এই ‘ইন্ডিয়া’ নামটি স্থির করা হয়।
সূত্র : বিসিবি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button