ইতিহাসের ভয়ানক পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং ভয়ানক পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা খবর অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া এ পর্যন্ত ৫টি পরমাণু বোমার সফল পরীক্ষা চালালো। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসেও দেশটি হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দেশটি পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালায়। এদিকে আজ শুক্রবার দেশটির জাতীয় দিবস। জাতীয় দিবসেই বিশাল এই পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া যেন গোটা বিশ্বকেই চ্যালেঞ্জ করলো। দেশটি গত কয়েকমাস ধরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, আমেরিকা, রাশিয়াসহ সকল শক্তিধর দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
জানা যায়, পরমাণু বোমা পরীক্ষার চালানোর ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে ৫ থেকে ৫.৩ মাত্রার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও ইউরোপ এবং চীনা সংস্থাগুলোও ভূকম্পনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা কেন্দ্র পাং-গিরি এলাকায় এ ভূমিকম্পটি হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহ্যাপ বলছে, শুক্রবারের বোমাটি প্রায় ১০ কিলোটন ওজনের। জাপানের হিরোশিমায় আমেরিকা যে বোমা হামলা করেছিল সেটির ওজন ছিল ১২ থেকে ১৫ কিলোটন। যার তেজস্ক্রিয়তায় প্রায় পাঁচবর্গ মাইল এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
জানা যায়, পারমাণবিক বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও পিয়ংইয়ং এ নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করছে না। আমেরিকায় আঘাত হানতে সক্ষম পরমাণু বোমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
পরমাণু বিশ্লেষকরা বলছেন, শুক্রবার পরমাণু বোমার সফল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। এদিকে উত্তর কোরিয়া তাদের পরীক্ষা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেনি।




