ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশ করতে দেয়ায় ভারত সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। দেশের রাজনীতিবিদদের প্রবেশ করতে না দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদদের জম্মু-কাশ্মীরে প্রবেশ করতে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে মোদি সরকারের এই উদ্যোগকে ‘অনন্য জাতীয়তাবাদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন এই নেত্রী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক নিজের এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদদের অনুমতি রয়েছে কাশ্মীরে প্রবেশ করার,সেখানে ঘুরে দেখার এবং হস্তক্ষেপ করার; অথচ দেশের সাংসদ, নেতাদের অনুমতি নেই সেখানে প্রবেশ করার। এমনকি কাশ্মীরে পৌঁছে বিমান থেকে নামার পরই তাদের সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অনন্য জাতীয়তাবাদ!’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদরা জানিয়েছেন, তারা চান কাশ্মীরের পরিস্থিতি যাচাই করতে। কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ৫ আগস্ট থেকে কাশ্মীর ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের এই ধারা উঠিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য হিসেবে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ পায়। তিনজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও প্রায় শতাধিক মূলধারার রাজনীতিবিদকে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
গত ২৫ শে আগস্ট বিরোধী সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল যার নেতৃত্বে ছিলেন রাহুল গান্ধী, ঘোষণা করেন, জম্মু কাশ্মীরের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এবং সেখানকার মানুষের কঠিন পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে তারা জম্মু-কাশ্মীরে যাবেন। কিন্তু শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশ করতে দেয়ায় কোমর বেঁধে নেমেছে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরোধী পক্ষগুলো। তাদের প্রশ্ন, যখন তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাহলে কোন যুক্তিতে বিদেশী সংস্থার সাংসদদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হল।
এর আগে সোমবার ওই ২০ জন আইনপ্রণেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে দেখা করেন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, ‘জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক অগ্রাধিকার ছাড়াও ওই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বিভিন্নতা সম্পর্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদদের এই যাত্রা একটা ধারণা তৈরি করবে।’
এ ব্যাপারে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী একটি টুইট করে লিখেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদদের এই যাত্রায় ‘কিছুতো রয়েছে যা খুবই খারাপ। জম্মু কাশ্মীরের গাইডেড ট্যুরে যাওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদদের সাদর অভ্যর্থনা জানানো হল অথচ ভারতীয় সাংসদদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হল, তাদের ঢুকতে দেওয়া হলো না। এটি সত্যিই খুব খারাপ সংকেত।’



