শিরোনাম

ইউএনওকে লাঞ্ছিত করায় পাবনার বেড়া পৌর মেয়র বরখাস্ত

পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত করায় বেড়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশে জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা প্রশাসক পাবনার প্রেরিত প্রতিবেদন অনুসারে বেড়া পৌর মেয়রের আচরণ ও কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর ৩২ (১) (খ) ও (ঘ) ধারায় বর্ণিত অভিযোগের পর্যায়ভুক্ত হওয়ায় একই আইনের ৩১ (১) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ সমীচীন। উল্লেখিত অপরাধ ৩২ (১) উপ ধারা অনুযায়ী মেয়র পদ থেকে অপসারণ যোগ্য অপরাধ। মেয়র আব্দুল বাতেনের অসদাচরণ শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও ক্ষমতার অপব্যবহার পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে সরকার মনে করে। তাই স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌরসভা আইনের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বেড়া পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে আব্দুল বাতেনকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে, সোমবার রাতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর প্রেরিত এক পত্রে মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ জানান, সোমবার বেড়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অক্টোবর মাসের মাসিক সভা চলাকালীন সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন আব্দুল বাতেন । যা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে শিষ্টাচার বহির্ভূত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, গত সেপ্টেম্বর ২০২০ মাসের উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় মেয়র বেড়া পৌরসভা নগরবাড়ী ঘাট ও কাজীরহাট ঘাট ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে বেআইনি ও প্রস্তাব উত্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা কার্য বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ প্রেক্ষিতে অক্টোবর মাসের চলমান সভায় কার্যবিবরণীর উক্ত বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিবাদ করলে এবং আইনবহির্ভূত কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, মেয়র আব্দুল বাতেনের শিষ্টাচার বহির্ভূত ও আইন পরিপন্থী আচরণ নতুন নয়, প্রায়শই তিনি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিষ্টাচার বহির্ভূত, ঔদ্ধত্যপূর্ণ অসদাচরণ করেন। এসব কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রমাণাদিসহ মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে জেলা প্রশাসনের চিঠির প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্তর আদেশ জারি করা হয়েছে।
বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে আব্দুল বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করবো।
প্রসঙ্গত, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা ১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর ছোট ভাই মেয়র আব্দুল বাতেন দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য সমালোচিত হয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক মামলা চলমান। সম্পªতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করায় আব্দুল বাতেনকে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button