ইংল্যান্ডের সব অর্জন ম্লান হলো টেইলরের তাণ্ডবে

এভাবে হারবে- তা হয়ত কল্পনাও করেনি ইংল্যান্ড। ৩৩৫ রানের বিশাল স্কোর গড়ার পরও নিউজিল্যান্ডের রস টেইলরের কাছে হেরে গেলো ইংলিশরা। একাই দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন তিনি। ব্যাট হাতে চার-ছক্কার তাণ্ডব চালিয়েছেন, অপরাজিত ছিলেন অনবদ্য ১৮১ রানে।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে আজ মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। ডুনেদিনে টস জিতে ইংলিশদের ব্যাট করতে পাঠায় কিউইরা।
শুভ সূচনা করে উদ্বোধনী জুটি জেসন রয় ও বেয়ারস্টো। চার-ছক্কার ফুলঝরি উড়িয়ে দ্রুত রান তুলে তারা। তবে দলীয় ৭৭ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেন ওপেনার রয়। অর্ধশত থেকে আট রান দুরে থাকতে ইস সোদির বলে বিদায় হন। তাতে অবশ্য কোনো ক্ষতির চেয়ে লাভই বেশি হয়েছিল ইংল্যান্ডের।
রয়ের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন জো রুট। বেয়ারস্টো-রুট জুটির তাণ্ডবে দ্রুত আড়াই শ’ রান ছাড়িয়ে যায় ইংল্যান্ড। শতক করেন বেয়ারস্টো। ১০৬ বলে ১৪ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় ১৩৮ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। বিধ্বংসী এ জুটির ভাঙন ধরান কলিন মুনরো। সাজঘরে ফেরান বেয়ারেস্টাকে।
তবে রুট ছিলেন আরো খানিকটা সময়। টেল-এন্ডারদের নিয়ে সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার যোগ্য সঙ্গী হতে পারেননি কেউই। একপ্রান্ত আগলে ছিলেন ৪৭ ওভার পর্যন্ত। যখন সাজঘরে ফিরেন তার সংগ্রহ ছিল ১৫৫ বলে ছয় বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ১০২ রান।
নির্ধরিত ৫০ ওভারে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ৩৩৫ রান।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেন সোদি।
লক্ষ্য তাড়া করেতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ওপেনিং জুটিকে শূন্য হাতে বিদায় করে ইংল্যান্ড। এরপর জুটি বাধেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। তারপর যা হলো, তা হয়ত কল্পনাও করেনি ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে টেইলর এমন তাণ্ডব চালিয়েছেন তাতে ম্লান হয়ে গেছে ইংলিশদের সব অর্জন। এই সময় উইলিয়ামসন ছাড়াও তাকে সঙ্গ দিয়েছেন টম লাথাম। ৪৫ রানে সাজঘরে ফেরার পর ক্রিজে আসেন তিনি। জুটি বাধেন টেইলরের সাথে।
টেইলর যেখানে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে যাচ্ছিলেন লাথাম সেখানে ধীরস্থির ছিলেন। ফলাফল দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়া। তিনি সাজঘরে ফিরেন ৭১ রানে। ৬৭ বলে দুই বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় এই ইনিংস সাজান তিনি।
তার বিদায়ের পর বাকি পথটা টেল-এন্ডারদের নিয়ে পাড়ি দেন টেইলর। ১৪৭ বলে ১৮১ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংসে ছিল ১৭টি বাউন্ডারি ও ৬টি ছক্কা। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন কিউইদের জয়ের এই নায়ক।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজে দুটি করে জয় নিয়ে সমতায় আছে দুই দল নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।




