শিরোনাম

আ.লীগ নেতার স্ত্রী-মেয়ে, আত্মীয়ের নাম ‘ভিক্ষুক’ তালিকায়

ভিক্ষুকসহ দরিদ্রদের সরকারি সহায়তার তালিকায় অবস্থাসম্পন্ন আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী-মেয়েসহ স্বজনদের নাম থাকায় এবার পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মাকবুল হোসাইন নামের ওই কাউন্সিলরকে চুড়ান্তভাবে কেন বরখাস্ত করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রবিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকবুল হোসাইনকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি কেন চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে মাকবুল হোসাইনকে জবাব দানের জন্য ১০ কার্যদিবসের সময় বেঁধে দেওয়াও হয়েছে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারি ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণের ওই তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইস্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মো. শাহ আলমের স্ত্রী, মেয়ে, ভাই, বোন, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী, ভাইপো, বোনের দেবরসহ ১৫ জন আত্মীয়ের নাম পাওয়া যায়।
এ ঘটনার গত ১৩ মে আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহ আলমের সরকারি চাল বিতরণের ওএমএস-এর ডিলারশিপ বাতিল করা হয়।
উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- ওই নেতার স্বজনদের নাম ওএমএস-এর ভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগের প্রমান পাওয়ায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকবুল হোসাইনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে উদ্ধুত পরিস্থিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র, নিন্ম আয়ের মানুষের মাঝে বিশেষ ওএমএসের কার্যক্রমের আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে মাসিক ২০ কেজি বা পাক্ষিক ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্যে অনিয়ম করে একটি সচ্ছল পরিবারের সব সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনসহ ১৫ জন ব্যক্তির নাম ওএমএস ভোক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় এবং আপনার দ্বারা সংঘঠিত অপরাধমূলক কার্যক্রম জনস্বার্থের পরিপন্থি বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর ধারা ৩২ (১) (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী স্বীয় পদ থেকে অপসারণের লক্ষ্যে আপনাকে একই আইনের ধারা ৩১(১) অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সাথে, মাকবুল হোসাইনকে পৌরসভা আইনের ৩২ (২) বিধান অনুযায়ী কেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবে না তা আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে জবাব দেবার নির্দেশ দেওয়াও হয়েছে। দেশ রূপান্তর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button