উপমহাদেশশিরোনাম

আসামে ৪০ লাখের নাগরিকত্ব হারানো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়: জয়শঙ্কর

ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারতের আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে যা হচ্ছে সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ব্রিফিং-এ তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো আসামে যে ৪০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে আছে সেটি বাংলাদেশকে প্রভাবিত করবে কিনা।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিবিসি সংবাদদাতা আকবর হোসেন। তিনি জানান, এই প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়”।
এসময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তার সাথে ছিলেন, তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
যদিও অতীতে বিভিন্ন সময় বিজেপির প্রভাবশালীরা নেতারা বলেছিলেন যে আসামে যে নাগরিক তালিকা করা হয়েছে তাতে যারা বাদ পড়েছে তারা অবৈধ বাংলাদেশী এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
দু দিনের সফরে মিস্টার জয়শঙ্কর গত রাতে ঢাকায় এসেছেন এবং আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সাথেও সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে তার।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্তে নিরাপত্তা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে কিভাবে ভারত বাংলাদেশের অংশীদার হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার- তিন দেশের স্বার্থেই দরকার বলে তার দেশ মনে করে।
আসামের নাগরিকত্ব সংকট গত বছর ত্রিশে জুলাই আসামের খসড়া নাগরিক তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় তাতে প্রায় ৪০ লাখ স্থানীয় মানুষের নাম নেই।
সেখানকার কর্তৃপক্ষ বলেছিলো রাজ্যটিকে অবৈধ অভিবাসীমুক্ত করার কর্মসূচির আওতায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
দ্য ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস বা এনআরসি নামে পরিচিত এই তালিকাটি ১৯৫১ সালে তৈরি করা হয়েছিলো এটা জানতে যে, কারা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক এবং কারা প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছে।
এই প্রথমবারের মত ঐ তালিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
যাতে যারা ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার আগে থেকেই নিজেদের আসামের বাসিন্দা প্রমাণ করতে পারে তাদেরকে ভারতের নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
ভারতের সরকারের দাবি, রাজ্যে অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করতে এই তালিকা প্রয়োজন।
গত জুলাইতে সরকার চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করে যা অনুযায়ী আসামে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু ও মুসলিম বাঙালি।
এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা চলতি মাসের শেষে প্রকাশের কথা রয়েছে। বিবিসি বাংলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button