sliderউপমহাদেশশিরোনাম

আসামে সিএএ প্রতিবাদের ঝড়, যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

আসামে বিতর্কিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯ (সিএএ)-এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তির পরে আসাম জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারির এক দিন পরে মঙ্গলবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন যে রাজ্যে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) জন্য আবেদন না করা একজনকে নাগরিকত্ব দেয়া হলেও তিনিই প্রথম পদত্যাগ করবেন।

পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে অনিবন্ধিত অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ প্রশস্ত করেছে সিএএ, ২০১৯।

শিবসাগরে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে হিমন্ত শর্মা বলেন, ‘আমি আসামের সন্তান এবং রাজ্যে এনআরসির জন্য আবেদন করেননি এমন একজনও যদি নাগরিকত্ব পান, তাহলে আমিই হব প্রথম পদত্যাগকারী।’

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সিএএ কার্যকর হলে লাখ লাখ মানুষ রাজ্যে ঢুকে পড়বেন।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যদি তাই হয়, তাহলে আমিই প্রথম প্রতিবাদ করব।

সিএএ কার্যকর করার প্রতিবাদে আসামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুত্তলিকা এবং আইনের কপি পোড়ানো হয়েছে।

রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্র, আদিবাসী সংগঠনগুলি উত্তর-পূর্বে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে।

আসাম জাতীয়তাবাদী যুব ছাত্র পরিষদ (এজেওয়াইসিপি) লখিমপুরে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ায়, এবং কংগ্রেস সিএএ বাস্তবায়নের প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন জায়গায় আইনের প্রতিলিপিও পুড়িয়ে দেয়।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ২০১৪ সালের পর যারা ভারতে এসেছেন, তারা নাগরিকত্ব পাবেন না।

মানুষ নিজেদের বিদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে চায় না। বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা থেকে ৫০-৬০ হাজার আবেদন আসতে পারে, তবে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার জেলাগুলোতে তা নগণ্য হবে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, সিএএ নিয়ে নতুন কিছু নেই, কারণ এটি আগে কার্যকর করা হয়েছিল, এখন পোর্টালে আবেদন করার সময় এসেছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, পোর্টালের তথ্য এখন কথা বলবে এবং এটি পরিষ্কার হয়ে যাবে যে এই আইনের বিরোধিতাকারীদের দাবি তথ্যগতভাবে সঠিক কিনা।

তিনি বলেন, আসামের মানুষ এক মাসের মধ্যে জানতে পারবেন যে রাজ্যে লাখ লাখ বা কয়েক হাজার লোক নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন কিনা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে তিনি সিএএ’র সমর্থক এবং প্রতিবাদকারী উভয়কেই সম্মান করেন তবে সিএএ নিয়ে যথেষ্ট বলা হয়েছে এবং এখন দাবি প্রমাণ করার সময় এসেছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘২০১৯ সালের হিংসাত্মক আন্দোলন বিক্ষোভে পাঁচজনের মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী তাও এখন স্পষ্ট হবে।

সিএএ বিধি জারি হওয়ার সাথে সাথে কেন্দ্রীয় সরকার এখন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ‘নিপীড়িত’ অমুসলিম অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া শুরু করবে, যারা ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪ পর্যন্ত ভারতে এসেছিল।

এর মধ্যে রয়েছেন হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি ও খ্রিষ্টান।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button