অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

আশুলিয়ায় স্কাইলাইন শ্রমিকদের আমরণ অনশন

চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের চাকরিতে বহালের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন আশুলিয়ার একটি কারখানার শ্রমিকেরা।
রবিবার বেলা ১১টা থেকে আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের চত্বরে আশুলিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বসে স্কাইলাইন গ্রুপের ভুক্তভোগী শ্রমিকরা এ অনশন শুরু করেন।
অনশনকৃতরা সকলেই ওই কারখানায় ৫ থেকে ১১ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন।
এ ব্যাপারে ওই গার্মেন্টসের অপারেটর রাশিদা আক্তার বলেন, আমি দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এই কোম্পানিতে চাকরি করে আসছি, আজ পর্যন্ত কোনো দিন আমি কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ পর্যন্ত পাইনি। অথচ গত ৩০ জুলাই আমার কোম্পানির অ্যাডমিন অফিসার আমাকে কনফারেন্স রুমে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে এবং আমাকে থানা-পুলিশের ভয় দেখিয়ে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করেন।
পরে আমার আইডি কার্ড ও পাশ কার্ড নেওয়ার জন্য জোরাজুরি করে। সে সময় আমি বাধা প্রদান করলে উনি আমার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করেন এবং মৌখিকভাবে আমার চাকরি নাই বলে জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে আমি কারখানার সামনে গেলে আমাকে লাঞ্ছিত করা হবে বলেও হুমকি দেন।
তিনি বলেন, শুধু আমি নই আরও অনেকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই সেই সঙ্গে আমাদের দ্রুত চাকরি বহালের দাবি জানাই। যদি আমারদের দাবি না মানা হয় তাহলে আমরা এই আমরণ অনশন থেকে উঠবো না।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কারখানার কর্মকর্তারা আমাদের কথায় কোনো ধরনের কর্ণপাত করছেন না। এ ব্যাপারে আমরা শিল্পপুলিশ, বিজিএমইএ ও কলকারখানা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলকারখানা অধিদপ্তর মালিক পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনরায় চাকরিতে যোগদানের ব্যবস্থার নির্দেশ দিলেও তা মালিক পক্ষ মানেননি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এর একটি সুরাহা চাচ্ছি। যত দিন সুরাহা না হয় তত দিন আমাদের কার্যক্রম চলবে।
তিনি আরও বলেন, এই শ্রমিকদের যদি কোনো অন্যায় থাকে তাহলে দেশে শ্রমিক আইন আছে, শ্রমিক আইনে তাদের যে শাস্তি হবে তারা মাথা পেতে নিবে। তাদের বকেয়া বেতন না দিয়ে অন্যায়ভাবে মৌখিক ছাঁটাই তারা মানবে না।
এ ব্যাপারে স্কাই লাইন গ্রুপের অ্যাডমিন ম্যানেজার রানা জানান, বিভিন্ন অপরাধে ওই সকল শ্রমিকদের নামে থানায় জিডি রয়েছে। তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি দোষী সাব্যস্ত না হয় তাহলে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে। এছাড়া তাদেরতো চাকরি যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button