sliderস্থানিয়

আলফাডাঙ্গায় আগুনের ঘটনায় নিরীহদের গ্রেপ্তার না করার জন্য এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরসহ একই গ্রামের পাঁচটি স্থানে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনের ঘটনায় নিরীহ মানুষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করে প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

আজ বৃহস্পতিবার (১মে) দুপুরের দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের ধুলজুড়ি গ্রামে সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। এ সময় মামলার বাদি তরক বিশ্বাস, গ্রেপ্তারকৃত শাকিলের সহধর্মিণী ও সন্তানরাসহ কয়েকশ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ অংশ নেয়।

মানববন্ধনে গিয়ে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের ধুলজুড়ি গ্রামে গত সোমবার (২৯ এপ্রিল) আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি মন্দির, করাতকলসহ পৃথক তিনটি বাড়িসহ একটি গোয়ালঘর ও দুটি রান্নাঘরে আগুন দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গ্রামটির সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের কালি ও শিব প্রতিমার কাপড় পুড়ে যায়। এ ছাড়াও সুজন সরকারের গোয়ালঘর, জাহিদ শেখ ও আকবার মোল্যার রান্নাঘর এবং দেবাশীষ রায়ের করাতকল দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে এধরণের নাশকতা কে বা কারা জড়িত তা বলতে পারেনা এলাকাবাসী।

থানা সূত্রে জানা যায়, একটি মন্দির, করাতকলসহ পৃথক তিনটি বাড়িসহ একটি গোয়ালঘর ও দুটি রান্নাঘরে আগুন দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টার ঘটনায় ধুলজুড়ি গ্রামের তরণ বিশ্বাসের ছেলে তরক বিশ্বাস (২৭) বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্তদের দায়ী করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদের ছেলে মো. শাকিল আহমেদসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, আগুনের মামলার বাদি তরক বিশ্বাস, দুলাল কুমার বিশ্বাস, ধুলজুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজামুদ্দিন, আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদ, সুজন সরকার, আকবার শেখ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা আগুনের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত শাকিল আহমেদ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় মানুষের একজন সজ্জন প্রকৃতির লোক। সে এলাকার মানুষের বিপদ-আপদে ছুটে আসে তাদের পাশে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী এলাকাবাসীর সাথে তার মধুর সম্পর্ক রয়েছে। একটি দুষ্টচক্র মহল রাতের আঁধারে পরিকল্পনা করেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে এধরনের আগুনের ঘটনা ঘটিয়ে শাকিল আহমেদের মতো নিরীহ মানুষের উপর দায় চাপাচ্ছে। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে শাকিলের মুক্তি চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা থানা ওসি হারুন-অর-রশিদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে পুলিশ। নিরীহ কাউকেই হয়রানি করা হবে না বলে তিনি আরো জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button