
বেয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক এবং প্রচারণার অভিযোগে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে ফরিদপুর জেলা বিএনপি।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির প্যাডে জারি করা লিখিত আদেশ অনুযায়ী বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সহ সভাপতি খোসবুর রহমান খোকন, সহ সভাপতি রিজাউল করিম রেজা এবং ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সুজা।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে সভা-মিটিং ও যোগাযোগ এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর করা হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশের প্রতিক্রিয়ায় আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সহ সভাপতি খোসবুর রহমান খোকন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একটি আসনে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের টিকিট পান একজন। আমাদের আসনে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত আমরা অন্য একজন বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ছিলাম, যা দলীয় রাজনীতিতে স্বাভাবিক বিষয়।”
দলীয় ঐক্যের ঘাটতির অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর দায়িত্ব ছিল সব স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে বসা এবং ঐক্য গড়ে তোলা, যা করা হয়নি।”
জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ প্রসঙ্গে খোকনের দাবি, “আমরা দলীয় অফিসে একটি অভ্যন্তরীণ মিটিং করছিলাম। সে সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ অফিসে ঢুকে পড়েন। তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। এটিকে রাজনৈতিক বৈঠক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”
এবারের নির্বাচনে কাকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “যেহেতু আমাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাই আমরা দলীয়ভাবে আর বাধ্য নই। এলাকার জন্য যিনি ভালো কাজ করবেন এবং উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন, তাকেই আমরা সমর্থন করবো।”
অন্যদিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু বলেন, “বহিষ্কৃত নেতারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অমান্য করেছেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন। জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে বহিষ্কৃত নেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্য ও অবস্থান আলফাডাঙ্গায় বিএনপির ভোটব্যাংকে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে-তা নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা চলছে।




