আম্পায়ারের ভূমিকায় নাসির

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান চট্টগ্রাম টেস্টে আম্পায়ারের ভূমিকায় দেখা গেল টাইগার ব্যাটসম্যান নাসির হোসেনকে। দুষ্টুমি করতে ইংল্যান্ডের আম্পায়ার নাইজল লং-কে অনুসরণ করতে তার পাশে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান প্যাট কামিন্সকে আউট ঘোষণা করেন নাসির। তাই নাসিরের এমন দুষ্টুমি নজর কেড়েছে ক্রিকেট বিশ্বের সকলের।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১০৯তম ওভারে বল হাতে আক্রমণে এসেছিলেন বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ঐ ওভারের শেষ বলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান কামিন্সের বিপক্ষে লেগ বিফোরের আবেদন করেন মিরাজ ও তার সতীর্থরা। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দেননি নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা আম্পায়ার লং। সাথে সাথে রিভিউ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তাই রিভিউ’র জন্য থার্ড আম্পায়ারের কাছে শরনাপন্ন হন লং।
এ সময় লং-এর পাশে এসে দাঁড়ান নাসির। থার্ড আম্পায়ারের সাথে মাইক্রোফোনে কথা চলছিলো লং-এর। কথোপকথন শেষে থার্ড আম্পায়ারের সিদ্বান্ত দেন লং। নিজের আগের সিদ্ধান্তকে হাত দিয়ে ডেড ঘোষণা করেন লং, পাশে দাড়িয়ে একই ভঙ্গি করে হাত দিয়ে ডেড ঘোষণা করেন নাসিরও।
এরপর লং আঙ্গুল তুলে কামিন্সকে আউট ঘোষণা দেন। পাশে দাঁড়িয়ে আঙ্গুল তুলে কামিন্সকে আউট ঘোষণা করেন নাসিরও। তাই ব্যক্তিগত ৪ রানেই থেমে যেতে হয় কামিন্সকে। এজন্য ৮ উইকেটে ৩৬৪ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া।
নাসিরের এমন দুষ্টুটি পুরো ক্রিকেট বিশ্ব তো বটেই, এমনকি নাসিরের সতীর্থরাও পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন আর হাসছিলেন। টিভি সেটের সামনে থাকা ক্রিকেট ভক্তরাও যে হাসিতে লুটোপুটি খেয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
লিড অস্ট্রেলিয়ার, দিন বাংলাদেশেরই
বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ১ উইকেট হাতে নিয়ে ৭২ রানে এগিয়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩০৫ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৩৭৭ রান তুলে দিন শেষে করেছে অসিরা। তবে আজ সাতটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ খেলায় ফেরাটা নিশ্চিত করেছে।
অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের ৫৮ রানের সাথে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের অপরাজিত ৮৮ ও মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান পিটার হ্যান্ডসকম্বের অপরাজিত ৬৯ রানের কল্যাণে ২ উইকেটে ২২৫ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিলো অস্ট্রেলিয়া। এসময় ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৮০ রানে পিছিয়ে ছিলো অসিরা।
তাই বাংলাদেশের রানকে টপকে যাবার স্বপ্ন নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করার পরিকল্পনা ছিলো অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু তৃতীয় দিনের শুরু থেকে দাপট দেখায় বৃষ্টি। নির্ধারিত সময়ে শুরু হতে পারেনি তৃতীয় দিনের খেলা।
তবে বৃষ্টির তেজ কমার পর তিন ঘন্টা পর খেলা শুরু হয় তৃতীয় দিনের। ওয়ার্নার ও হ্যান্ডসকম্বের জমে উঠা জুটি ভাঙ্গতে বোলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছিলো না। অবশেষে সাকিব আল হাসানের হাত ধরেই ভাঙ্গল ওয়ার্নার-হ্যান্ডসকম্ব জুটি। বল হাতে আক্রমণে আসেননি সাকিব। ফিল্ডার হিসেবেই সরাসরি থ্রোতে নন-স্ট্রাইকের উইকেট ভেঙ্গে হ্যান্ডসকম্বকে বিদায় দেন সাকিব। তাই ৮২ রানে থেমে যান হ্যান্ডসকম্ব। সেই সাথে এই জুটির স্কোর থেমে যায় ১৫২ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেট জুটিতে এটি সর্বোচ্চ।
হ্যান্ডসকম্ব ফিরে যাবার পর ১৩তম বলে বাউন্ডারি দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়ার্নার। তিন অংকে পা দেয়ার পর আরও ২০ রান যোগ করতে পেরেছেন তিনি। ২৩৪ বলে ৭টি চারের সহায়তায় ১২৩ রানে থেমে যান ওয়ার্নার। তাকে শিকার করেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এসময় দলের স্কোর ৪ উইকেটে ২৯৮ রান।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে আর কোন ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের স্কোরকে টপকে দলকে লিড এনে দিয়েছেন পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। ৯ উইকেটে ৩৭৭ রান তুলে দিন শেষ করে অসিরা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩৮, অ্যাস্টন আগার ২২ ও হিল্টন কার্টরাইট ২২ রানে ফিরেন। স্টিভ ও’কেফি ৮ ও নাথান লিঁও শূন্য রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর ও মিরাজ ৩টি করে উইকেট নেন।




