sliderমতামতশিরোনাম

আমার ভোট আমি দেবো, যাকে ইচ্ছা তাঁকে দেবো

শাহীন রাজা : আমার ভোট আমি দেবো। যাকে ইচ্ছা তাঁকে দেবো। ভোট অধিকার বাস্তবায়নে ভোটারদের মধ্যে আকাঙ্ক্ষার একটা দিগন্তরেখা আবারও দেখা দিয়েছে। ভোট দেয়া, না দেয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দোলাচল ছিল। তার বদলে আশা করছে আগামীতে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

আশাহত হয়েছে এদেশের খুচরা বাম রাজনৈতিক দল। পীর-মুরিদের দল। এছাড়াও ধর্মীয় দর্শনে আশ্রিত বড় এক রাজনৈতিক দল।

খুচরা বাম রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা মুখে যতই গণতন্ত্রের কথা বলুক । কিংবা সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবী প্রকাশ করুক না কেন। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বড় দলের ঘাড়ে ভর দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়া।

বাম সংগঠনের নেতারা বুঝে গেছে, ভোটের বাজার হচ্ছে বড় দুই রাজনৈতিক দলের। সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, ভোট যুদ্ধ হবে এই দলের সাথে। বাকিদের কোন পাত্তাই থাকবে না। পীর-মুরিদের দলগুলোরও একই অবস্থা হবে। এরা যতই গণতন্ত্র, গণতন্ত্র বলে চিৎকার করুক। আসলে এরা ঘোলাটে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পছন্দ করে। অগণতান্ত্রিক সময়ে ক্ষমতাসীন দলকে রাজনৈতিক বৈধতা দেয়ার বিপরীতে তারা-ও সুবিধা নিয়ে। একতরফা নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদ লাভ। এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধায় অংশীদার হওয়া।
পীর-মুরিদ দলের নেতা বা পীর সাহেব ক্ষমতাসীন দলকে ধর্মীয় বা মুরিদদের সমর্থন দেয়ার নামে সুবিধা নেয়। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা লাভের এক পর্যায়ে একসময় নির্বাচনের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। একসময় সংসদ সদস্য পদ লাভে দেনদরবার শুরু করে। তাই খুচরা বাম নেতা এবং পীর সাহেবেদের কাছে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা বেশী পছন্দনীয়।

ধর্মীয় দর্শনে আশ্রিত বড় রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ আকাঙ্খা, জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব তাদের হাতে থাকবে। তাই সুযোগ হলেই তাদের বন্ধু জাতীয়তাবাদী সংগঠনকে বিপরীত মেরুর সাথে হাত মিলিয়ে ফেলে। এটা দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ। ৮৬ সালের নির্বাচনে বন্ধু রাজনৈতিক দলকে ফেলে নির্বাচনে অংশ নেয়। ৯৩-এ কেয়ারটেকার ইস্যু নিয়ে বিপরীত মেরুর আদর্শের সাথে মিত্রতার মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তোলে। এবং নির্বাচন করে। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটা অংশের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। এবং ২০০৮ সালে জোটকে নির্বাচনে অংশ নিতে অনেকটাই বাধ্য করে। এবং নির্বাচন পরবর্তীতে তাদেরকেই বড় মাশুল গুনতে হয়।

লোক মুখে শোনা যায়, এবার-ও তারা এমন পরিকল্পনা করেছে। বড় দুই দলের একদল নির্বাচন না করলে তারা হবে সংসদে প্রধান বিরোধী দল।

এদিকে রাশেদ খান বলেন, ‘ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেই তারা আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবে।’ গত ২৫ ফেব্রুয়ারী শনিবার রাজশাহী শহরের মাদ্রাসা ময়দানে বিভাগীয় সম্মেলনে একথা বলেছেন। এই সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্যই মেনন সাহেব সাধুবাদ পেতে পারেন। কিন্তু ১৯৯১ ও ২০২৩ এর মাঝে সময় এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেজায় ফারাক।

স্বৈরাচার এরশাদ হটাও আন্দোলনে বাম পাঁচদলীয় ঐক্যজোট অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। মেনন সাহেবের ওয়ার্কার্স পার্টি ঐ জোটের অন্যতম প্রধান শরীক দল। এছাড়া পাঁচ বাম রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর বিস্তার ছিল ব্যাপক। কিন্তু আজ ভিন্ন চিত্র। মেনন সাহেব বা বাম দলের নেতার মুখে যতই বিপ্লবী হুঙ্কার দিক না কেন। একক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই। তাই তাঁকে জিততে হলে, জোটবদ্ধ নির্বাচন করতে হবে।

বাংলাদেশের খুচরা দলের নেতারা আশায় ছিল, নির্বাচন একক হবে। এটা হলে দেনদরবার দুটো-চারটে আসন লাভ করা যাবে। চালচিত্র কিছুটা পাল্টে যাওয়ায়। আগামী নির্বাচনে বিজয়ে তারা শঙ্কিত ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button