আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

‘আমার গ্ল্যাডিয়েটর তার ঢাল নামিয়ে রেখেছে আর ডানা মেলে দিয়েছে…’

আলফি ইভান্স নামের ২৩ মাস বয়সী যে শিশুর চিকিৎসা নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আইনি লড়াই করছিলেন তার বাবা-মা, সেই শিশুটি মারা গেছে। লাইফ সাপোর্ট বা কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে ফেলার পাঁচদিন পরে শিশুটি মারা গেলো।
তার বাবা টম ইভান্স ফেসবুকে লিখেছেন, ”আমার গ্ল্যাডিয়েটর তার ঢাল নামিয়ে রেখেছে আর ডানা মেলে দিয়েছে…. সত্যিই হৃদয় ভেঙ্গে যাচ্ছে।”
মস্তিষ্কের জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে তার বাবা-মায়ের চার মাস ধরে চলা আইনি লড়াই আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়েছিল।
এমনকি পোপ ফ্রান্সিস শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
২০১৬ সালের মে মাসে জন্মের পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ে আলফি ইভান্স। কোষের বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে তখনি সে কোমায় চলে যায়।
তখন তাকে অ্যালডার হে চিলড্রেন্স হাসপাতালে ভর্তি করে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র লাগিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকে সে সেখানেই ভর্তি ছিল।

আলফির কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র না খোলা আর বিদেশে চিকিৎসার জন্য চার মাস ধরে আইন লড়াই করেছেন শিশুটির বাবা টম ইভান্স আর মা কেট জেমস

আলফির চিকিৎসকরা বলেছেন, তাকে আর লাইফ সাপোর্টে রেখে আর সুস্থ কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই তারা সাপোর্ট খুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তার বিরুদ্ধে আদালতে যান শিশুটির বাবা-মা।
তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে শিশুটির ভুল চিকিৎসা হয়েছে এবং তাকে সেখানে বন্দী করে রাখা হয়েছে।
তারা চেয়েছিলেন, শিশুটিকে ইটালির একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে। সেই অনুমতি দেয়ার জন্য পোপ ফ্রান্সিসও আহবান জানিয়েছিলেন।
এমনকি সোমবার শিশুটিকে ইটালির নাগরিকত্ব দিয়ে ইটালির সরকার আশা প্রকাশ করে, যেন তাকে সত্ত্বর দেশটিতে নিয়ে আসা হয়।
কিন্তু যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকদের কাগজপত্র দেখে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার পক্ষেই রায় দেন বিচারক।
অ্যালডার হে চিলড্রেন্স হসপিটালের চিকিৎসকরা বলেছেন, শিশুটির মস্তিষ্কের কোষ মরে যাচ্ছে, এবং তাকে আরো চিকিৎসা করা শিশুটির জন্য নিষ্ঠুর ও অমানবিক হবে।
আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের কোর্ট অব আপিল এবং ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটসেও যান আলফির বাবা টম ইভান্স আর মা কেট জেমস।
তাদের এই আইনি লড়াই শুধু যুক্তরাজ্যে নয়, বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে।
কিন্তু ভবিষ্যৎ চিকিৎসায় শিশুটির কোনো উপকার হবে না, চিকিৎসকদের এরকম রিপোর্ট দেখার পর আদালতে আলফির মা-বাবার আবেদন নাকচ করে দেন। কোর্ট অফ আপিলও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন আর ইউরোপিয়ান আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এরপর সোমবার তার কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে ফেলেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কয়েকদিন লড়াইয়ের পর শনিবার স্থানীয় সময় আড়াইটায় মারা যায় শিশুটি।
আলফির বাবা-মায়ের সমর্থনে যে ‘আলফি আর্মি’ নামে শিশুটির সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল, তারা শিশুটির স্মরণে স্থানীয় একটি পার্কে কয়েকশো বেলুন উড়িয়েছে। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button