slider

আফ্রিকায় দুর্ঘটনায় নিহত বাবা-ছেলের দাফন সম্পন্ন

ফেনী প্রতিনিধি : আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একসাথে নিহত ফেনীর প্রবাসী বাবা ও ছেলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ছেলের দক্ষিণ আফ্রিকায় দাফন করা হলেও বাবার লাশ দাফন করা হয়েছে ফেনীর নিজ গ্রামে।

শুক্রবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টায় সোনাগাজীর চর মজিলিশপুর ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে আবুল হোসেনকে দাফন করা হয়।

তারা হলেন সোনাগাজী উপজেলার আবুল হোসেন (৪৫) ও তার ছেলে নাদিম হোসেন (১০)।

একইদিনে দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আরো তিন বাংলাদেশীর লাশ সকালে নিজ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। তারা হলেন রাজু আহম্মেদ (৩৪), মোস্তফা কামাল (৪০) ও ইসমাইল হোসেন (৩৮)। তারা সবাই ফেনী সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার বাসিন্দা।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে চারজনের লাশ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে পৌছায়। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে দিবাগত রাত একটা থেকে দেড়টার দিকে লাশগুলো নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে পৌছায়।

সোনাগাজীর চর মজিলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ হোসেন জানান, রাতে আবুল হোসেনের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এম এ হোসেন বলেন, আবুল হোসেনের লাশ নিয়ে আসা হলেও তার ছেলে নাদিম হোসেনের লাশ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। নাদিমের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায় হওয়ায় সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় নিহত ইসমাইল হোসেনের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার বিরলী গ্রামে। তার ভাই নিজাম উদ্দিন বলেন, রাত ১টার দিকে ইসমাইল হোসেনের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। নিহত মোস্তফা কামালের বাড়ি দাগনভূঞা।

উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মিলন জানান, নিহত মোস্তফা কামালের লাশ আজ সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

নিহত রাজু আহম্মদের বাড়ি দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মমারিজপুর গ্রামে। তার লাশ সকাল ১০টায় দাফন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় ভোররাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের লোকানকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ বছরের এক শিশুসহ ছয় বাংলাদেশী নিহত হন। ওই বাংলাদেশীদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকার ওয়েস্টার্ন কেপ থেকে কেপটাউন বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। তখন ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পাঁচজনের। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের রামানন্দপুর গ্রামের আনিসুল হক মিলন নামের আরো একজন। তার লাশ দেশে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button