আফসোস রয়ে গেল দ্রুতমানবের

ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম মানব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে অনেক আগেই। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে একটি আক্ষেপই হয়ত রয়ে যাবে জ্যামাইকান স্প্রিন্ট তারকা আসাফা পাওয়েলের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নসহ অন্যান্য প্রায় সবকটি ইভেন্টে নিজেকে বিশ্বের দ্রুততম মানব প্রমাণ করলেও অলিম্পিকে ব্যক্তিগত স্বর্ণটা অধরাই রয়ে গেছে।
৩৩ বছর বয়সে এসে এই আফসোসটা একটু বেশিই যেন নিজেকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। রিও অলিম্পিকই যে নিজের শেষ অলিম্পিক সেটাও নিশ্চিত করেছেন। ২০০৪ এথেন্স, ২০০৮ বেইজিং ও ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ১০০ মিটারের শ্রেষ্ঠত্ব পাওয়া হয়নি। এই বয়সে ১০০ মিটারে দৌড়ানোর সামর্থ্য বা সাহসিকতা কোনটাই এখন আর নেই, সে কারণেই রিওতে শুধুমাত্র ৪x১০০ মিটার রিলেতে জ্যামাইককে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা ঈশ্বর প্রদত্ত স্প্রিন্টার হিসেবে পাওয়েলকে বিবেচনা করা হয়। যদিও অলিম্পিকে এসে অবসরের কথা নিয়ে চূড়ান্ত কিছু এখনই ভাবছেন না। এখনো নিজের স্প্রিন্ট স্যুটাকে তুলে রাখার কোন ইচ্ছা নেই।
তবে পাওয়েল বলেছেন, ‘অবশ্যই এটা আমার শেষ অলিম্পিক। আমি খুব বেশিদুর যেতে চাই না। খেলাটিকে ভালোবাসি, কিন্তু অবশ্যই শিগগিরই অবসরের সিদ্ধান্ত নিব। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত দৌড়ানোর কোন ইচ্ছা নেই। আমার পা সেটা মেনে নিবে না। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ফিট কিভাবে রেখেছি এই প্রশ্নের মুখোমুখি আমাকে প্রায়ই হতে হয়। এটা শুধুমাত্র ভালোবাসার কারণে, এ্যাথলেটিক্সকে মন থেকে ভালোবাসি, চেষ্টা করি সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার, একইসাথে দেশকে ভালোবাসার।’
রিওতে কোন ব্যক্তিগত ইভেন্টে অংশ নিতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করে পাওয়েল বলেছেন, অবশ্যই বিষয়টা বেশ হতাশার। এই প্রথমবার আমি শুধুমাত্র দলীয় ইভেন্টে অংশ নিচ্ছি। কিন্তু নিজ দেশের প্রতিটি এ্যাথলেটের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
বেইজিংয়ে ৪x১০০ মিটার রিলেতে বিশ্ব রেকর্ড গড়েই স্বর্ণ জিতেছিল জ্যামাইকা। ৩৭.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে জ্যামাইকা শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছিল। পাওয়েলের বিশ্বাস উসাইন বোল্ট, ইয়োহান ব্লেক, নিকেল আশমেডে, জেভাগন মিনজি ও কেমার বেইলি-কোলকে নিয়ে রিওতে প্রতিনিধিত্ব করা এবারের দলটিও জ্যামাইকাকে সর্বোচ্চ অর্জনই উপহার দিবে।




