
১২ আগস্ট, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক যুব দিবস। প্রতিবছরের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় এ বছরও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ।
এ বছরে দিবসটির প্রতিপাদ্য বৈশ্বিক কর্মে যুবদের সম্পৃক্ততা।
দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ইউএনভি বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় মতিঝিলের যুব ভবনে ‘বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এই আলোচনা সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. আকতার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে কেউ কর্মহীন থাকবে না। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন এর অভীষ্ট (এসডিজি গোল) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জনে সরকার বদ্ধপরিকর।’
‘এ লক্ষ্যে দেশের যুবসমাজকে আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে চলেছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যাতে পিছিয়ে না পড়ে, যুবরা যেন কর্মহীন হয়ে না পড়ে সে জন্য সরকার যুবদের জন্য গ্রামে আত্মকর্মসংস্থান নামক বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭ লাখ যুবক প্রশিক্ষণ ও যুব ঋণ সুবিধা পাবে।’
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যুব উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘২০২০ সালটি বাংলাদেশের তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন করছি একই সঙ্গে বছরব্যাপী সারা বিশ্বের তরুণদের অংশগ্রহণে ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০ এর নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি উদ্যাপন করবে।’
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে মহাপরিচালক জনাব আখতারুজ্জামান কবির অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব ফারাহ কবির, ইউএনভি বাংলাদেশের কান্ট্রি কো–অর্ডিনেটর আকতার উদ্দিন, সোশ্যাল ইনোভেশন ক্লাস্টার এ টু আই প্রকল্পের হেড মানিক মাহমুদ এবং ইয়ুথ অ্যাকটিভিস্ট ফাহমিদা ফাইজা।
দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে সকালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক পথচারী, রিকশা ও ভ্যানচালকদের মাঝে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।
তারুণ্যের বিকাশ ও উন্নয়নে ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অব মিনিস্টার রেসপনসিবল ফর ইয়ুথ ১২ আগস্টকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে উদ্যাপনের প্রস্তাব করে। পরের বছর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দিনটিকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




