slider

আত্রাইতে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে আবু হান্নান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার মহাদীঘি গ্রামের মকবুল খাঁর ছেলে। ৮ম শ্রেণি পাশ আবু হান্নানের ফেসবুক আইডির নাম ‘সাংবাদিক এবি হান্নান’। এছাড়াও তিনি ভোঁপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবু হান্নান কখনো সাংবাদিক পরিচয়ে, কখনো বা দলীয় ক্ষমতার দাপটে চাঁদাবাজি করে আসছেন। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে চরম হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। তার অপকর্মের কারণে আত্রাইয়ের সকল সাংবাদিকেরই সুমান ক্ষুন্ন হচ্ছে। পেশায় হান্নান টিউবয়েল স্থাপন করার কাজ করে। আর এই পেশা দিয়েই সে উপজেলায় বেশি পরিচিত কিন্তু বর্তমানে সে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এবাদুর রহমানের চামচা বনে যাওয়ায় আর মাটিতে পা পড়ে না কথিত সাংবাদিক হান্নানের।
হান্নানকে চাঁদা না দেওয়ার চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে উপজেলার মাধাইমুড়ি গ্রামের আব্দুল জলিল নামের এক মৎস খামারিকে। জানা গেছে, কৃষিজমিতে পুকুর খননের অভিযোগ তুলে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ওই মৎস্যখামারির কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন আবু হান্নান। সেই চাঁদা না পেয়ে ওই খামারিকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছেন আবু হান্নান। এ ঘটনায় কথিত সাংবাদিক আবু হান্নানের হয়রানি থেকে বাঁচতে গত রোববার ‘আত্রাই প্রেসক্লাব’ ও ‘আত্রাই উপজেলা প্রেসক্লাব’ এ লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই খামারি। এছাড়া আত্রাই থানা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলালের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, শুধু আব্দুল জলিলই নন, চাঁদা না দেওয়ায় ওই গ্রামের ভুট্টো, বেলাল, ওয়াহেদ ও আকবর নামে কয়েক ব্যক্তির জলাভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল হান্নানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী খামারি আব্দুল জলিল বলেন, আড়াই বছর আগে খামার নির্মাণের সময় সাংবাদিক পরিচয়ে প্রথমবার এসে কৃষি জমিতে পুকুর কাটার অভিযোগ তুলে ১০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন আবু হান্নান। সে সময় চাঁদা না দেওয়ায় দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান তিনি। এরপর থেকেই আমাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা শুরু করেন হান্নান। এক পর্যায়ে গত জুলাই মাসে খামারে যাওয়ার রাস্তার কারণে সরকারি খালে পানি প্রবাহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আবারও চাঁদা দাবি করেন আবু হান্নান। অথচ মাধাইমুরি গ্রামের দুইপাশে এমন অর্ধশতাধিক রাস্তা আছে এসময় আবারও তাকে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে রকিসহ কয়েকজন অনুসরীকে নিয়ে আমার ও আমার ছোটভাইয়ের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন হান্নান।
পরে উপজেলা প্রসাশন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলমান বর্ষা মৌসুমের পর খামারের রাস্তায় মোটা ব্যাসার্ধের সিমেন্টের রিং বসাতে বলেন। এরপরও হান্নান ও তার অনুসারীরা ভোঁপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। এরপর চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আমাদেরকে কোনো কিছু না জানিয়ে বেআইনি ভাবে দুই সপ্তাহ আগে হান্নান ও তার সহযোগীদের নিয়ে সড়কের বর্ধিতাংশ অপসারণ করেন। এতে আরও সাহস বেড়ে যায় হান্নান ও তার সহযোগীদের। এরপরের দিন সকালে এসে হামলা চালিয়ে খামারে প্রবেশের রাস্তা সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে ফেলেছেন হান্নান ও তার সহযোগীরা। এখন সাঁতরে ছেড়ে খামারে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই আমার।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হান্নান বলেন, আমি আমার বাংলা পত্রিকার স্থানীয় ‘খবরদাতা’। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’ এসময়তার পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকের নাম জানতে চাইলে জানানোর জন্য এক ঘণ্টা সময় চেয়ে নেন কথিত সাংবাদিক আবু হান্নান। কিন্তু পরে আর তিনি যোগাযোগ করেননি।
হান্নানের বিষয়ে উপজেলার সাংবাদিকদের একাংশের সংগঠন ‘আত্রাই প্রেসক্লাবের’ সভাপতি তপন সরকার বলেন, ‘আমাদের এখানে আবু হান্নান নামে কোনো সাংবাদিক নেই। তিনি কোন গণমাধ্যমে জড়িত বলে আমার জানা নেই। উপজেলার সাংবাদিকদের আরেকাংশের সংগঠন ‘আত্রাই উপজেলা প্রেসক্লাবের’ সাধারণ সম্পাদক কাজী রহমানও জানালেন একই কথা। রহমান বলেন, আবু হান্নান নামে কেউ আমাদের সংগঠনে নেই।
এ বিষয়ে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল মুঠোফোনে বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে বিষয়টি দুঃখজনক। আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। ২/৩ দিনের মধ্যে এলাকায় ফিরে বিষয়টি দেখব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button