ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও নাগরিক তালিকা (এনআরসি) সমর্থন করায় ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতিরোধের মুখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধনখড়।
আনন্দবাজার জানায়, তৃণমূল সমর্থিত শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা মঙ্গলবার সকলে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখেন রাজ্যপালকে।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাজ্যপাল ক্যাম্পাস ছাড়তেই শুরু হয়ে হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান। আচার্যের চেয়ার ফাঁকা রেখেই চলছে সমাবর্তন।
সোমবার রাজ্যপাল বলেছিলেন, ‘কাল (মঙ্গলবার) সমাবর্তনে ফের আসব।’ কথামতো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ফের ঘেরাওয়ের মুখে পড়েন রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধনখড়।
ক্যাম্পাসে ঢুকতেই পাঁচ নম্বর গেটের কাছে তার গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ছাত্র-শিক্ষকরা। কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তারা।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশও রাজ্যপালকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। গোটা ঘটনা ঘিরে ফের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান ঘিরেই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভের পর গাড়ি থেকে বেরিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন, ‘রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। রাজ্যপাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে এটা আমার কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক মুহূর্ত। আমি মর্মাহত।’
ছাত্রদের একাংশ রাজ্যপালকে বয়কটের ডাক দিয়েছে। অন্য দিকে রাজ্যপাল আটকে থাকায় সমাবর্তন অনুষ্ঠানও শুরু করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে উপাচার্য সুরঞ্জন দাসসহ কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা বৈঠকে বসেন। রাজ্যপালকে ছাড়াই সমাবর্তন করা যায় কিনা তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করতে।
কিন্তু রাজ্যপাল স্পষ্ট করে বলেন, ‘আচার্যকে ছাড়া কোনোভাবেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের অনুমোদন দেব না। সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। আমি নীরব দর্শক হয়ে থাকব না।’
সিএএ-এনআরসি প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, ‘দেশের সংসদে পাস হওয়া যেকোনো আইন সবাই মেনে চলতে বাধ্য।’
অন্যদিকে বিক্ষোভকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, তারা কিছুতেই রাজ্যপালকে ভেতরে যেতে দেবেন না। আগের নজির তুলে তাদের দাবি, আগেও আচার্যকে ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হয়েছে, এবারও সেভাবেই হোক।




