আওয়ামী লীগের সম্মেলন : সবার দৃষ্টি সাধারণ সম্পাদকের দিকে

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে সবার দৃষ্টি এখন সাধারণ সম্পাদক পদের দিকে। কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? আশরাফ না কাদের? নাকি এই দু’জনের বাইরে অন্য কেউ। এসব নিয়ে সরব আলোচনা শুধু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাজনীতি সচেতন সব মানুষের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
এবারের কাউন্সিলেও সভাপতি হিসেবে বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা বহাল থাকছেন। সেজন্য সব আকর্ষণ সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে। এই পদে সৈয়দ আশরাফই আবার বহাল থাকছেন এত দিন এমন আলোচনা থাকলেও সম্মেলনের ঠিক আগ মুহূর্তে সেই চিত্র পাল্টে যায়।
বিশেষ করে গত বুধবার রাতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের পর থেকেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় শেখ হাসিনা কাদেরকে উদ্দেশ্য করে তৃণমূল পর্যায়ে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকার কথা বলেন। সে জন্য তাকে প্রস্তুত থাকতে বলেন।
আর ওবায়দুল কাদের নিজেই তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় উল্লাসে ফেটে পড়েন কাদের অনুসারীরা। মিষ্টি বিতরণ শুরু করে দেন তারা। ওবায়দুল কাদেরের পেছনে বিশাল গাড়িবহর শোভা পায়। সবার মুখে মুখে রটে যায় কাদেরই সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সৈয়দ আশরাফ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তার আগে তিনি তার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে জাতীয় চার নেতার একজনের ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজের সাথে বৈঠক করেন। এটিকে আশরাফবিরোধীরা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে ঠেকানোর একটি ট্রাম্পকার্ড হিসেবে দেখছেন।
আবার ওই দিন সন্ধ্যায় সৈয়দ আশরাফ বিদেশী অতিথিদের সাথে নৈশভোজে অংশ নিয়ে বলেন, ‘দলের নেতৃত্বে কি চমক থাকছে তা কেবল আমি আর শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ জানে না। যারা এখন বিভিন্ন নামে স্লোগান দিচ্ছে তা ভুয়া। এগুলো টিকবে না।’
সৈয়দ আশরাফের এমন বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবার নতুন দিকে মোড় নেয়। সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যকে বেশ ইঙ্গিত ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন দলের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, সৈয়দ আশরাফ কখনো কোনো বেফাঁস কথা বলেন না। নিশ্চয়ই ওবায়দুল কাদের বাইরে অন্য কিছু হতে যাচ্ছে। হয় সৈয়দ আশরাফ নিজেই এ পদে বহাল থাকছেন না হয় সোহেল তাজ বা অন্য কেউ এ পদে আসছেন। তবে শেষ চমক কি তা জানার জন্য আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে নেতাকর্মীদের।




