অ্যাসাঞ্জ অস্ট্রেলিয়ায় তার ঘরে ফিরতে পারবেন-প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন মঙ্গলবার বলেছেন, যদি বৃটিশ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যার্পণ মামলা ব্যর্থ হয় তাহলে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ অস্ট্রেলিয়ায় তার ঘরে ফিরতে পারবেন। ওদিকে অস্ট্রেলিয়ার আইন প্রণেতারা ওয়াশিংটনের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা প্রত্যাহার করতে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। উল্লেখ্য, এর একদিন আগে অর্থাৎ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তাকে তুলে দেয়ার অনুরোধ ব্লক করে দেয় বৃটিশ বিচারক। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির আইনে মামলা রয়েছে। কারণ, তিনি ২০১০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মার্কিন সরকারের গোপন ও স্পর্শকাতর হাজার হাজার ফাইল প্রকাশ করে দেন। তবে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার বিরোধিতা করে বৃটিশ বিচারক বলেছেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হলে মানসিক অসুস্থতায় ভুগবেন অথবা তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। বৃটিশ বিচারকের এই রায়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আপিল করবে বলে জানিয়েছে।
এর অর্থ হলো এখন এই মামলাটি যাবে বৃটিশ সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে এর ফয়সালা হতে সময় লাগতে পারে তিন বছর।
এমন প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় রেডিও স্টেশন ২জিবি’তে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, বিচার ব্যবস্থা তার নিজের ধারা অনুসরণ করে চলছে। এক্ষেত্রে আমরা কোনো পক্ষ নই। যেকোনো অস্ট্রেলিয়ানের মতোই তারা এক্ষেত্রে কনসুলার সাপোর্ট প্রস্তাব করেছেন এবং ‘আমরা চাই আপিল ব্যর্থ হোক’। স্পষ্টত, অন্য অস্ট্রেলিয়ানের মতোই অ্যাসাঞ্জের দেশে ফিরে আসার সক্ষমতা থাকা উচিত। সুতরাং বৃটেনে আইনগত ব্যবস্থা তার মতো চলছে।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮টি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে তিনি তার উইকিলিকসে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের স্পর্শকাতর অসংখ্য ফাইল ফাঁস করে দেন। এতে মার্কিনিদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র বৃটেনে মামলা লড়ছে।




