অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : ঢাবিতে এক ঝাঁক তারার মেলা
বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন সাবেক অনেক ছাত্রছাত্রী। যাদের অনেকে বর্তমানে দেশের বিশিষ্টজন। ফলে অ্যালামনাইর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ দিনে বসে এক ঝাঁক তারার মেলা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে অ্যালামনাই ফোরের সামনে ‘১০০ বছরের দ্বারপ্রান্তে সৌরভে গৌরবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত চলে আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
শনিবার বিকেল ৪টায় ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে পতাকা উত্তোলন ও কেক কেটে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
উদ্বোধনী কার্যক্রম শেষে অ্যালামনাই ফোরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. ফরাসউদ্দীন, অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাংবাদিক শাইখ সিরাজ, অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ।
সভায় অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে চেনা যায় এর গবেষণা, প্রকাশনা ও অনুবাদের মধ্য দিয়ে। আমাদের এ তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে বইয়ের ভুবন গড়ে তুলতে সাহায্য করার জন্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন করার কথা বলা হয়েছে। এ দু’টি কাজ ভালো হবে না।
সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম কাজ উল্লেখ করে ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে সত্য অনুসন্ধান করা, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। আমরা এ কাজ করে চলেছি। দেশের দুঃসময়েও এ বিশ্ববিদ্যালয় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর দিন অতিবাহিত করবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণের স্পন্দন শোনা যায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। তারাই তাদের জীবনের সবচেয়ে সেরা মুহূর্তগুলো এ ক্যাম্পাসে অতিবাহিত করেছেন। বর্তমানে তারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই। বছরের এ দিনটিতে তারা ক্যাম্পাসে আসবে, আড্ডা দেবে ও সুন্দর একটি দিন অতিবাহিত করবে।
প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও প্রভাব নির্ধারিত হয় অ্যালামনাই দিয়ে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের চেয়ে আলাদা। কেননা তারা জাতি গঠনে অবদান রেখেছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, অ্যালামনাইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায় মোচনের সময় এসেছে। আশা করি, কিছুটা হলেও তা মোচন করতে পারব। সুত্র: নয়া দিগন্ত




