অ্যামাজনের আগুন নেভাতে মাঠে নেমেছে ৪৪ হাজার সেনা

তিন সপ্তাহ ধরে পুড়ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ খ্যাত ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। ভয়ঙ্কর এই আগুন নেভাতে সেখানে ৪৪ হাজার সেনা সদস্য পাঠিয়েছে দেশটির সরকার। ইতোমধ্যে এসব সেনারা পুরোদমে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছে।
এ বিষয়ে ব্রাজিলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, অ্যামাজন ঘেঁষা ছয়টি প্রদেশে ৪৪ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর দুটি হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভাতে শুরু করে দিয়েছে। বিমান দুটি থেকে ৩ হাজার ১৭০ গ্যালন পানি ফেলা হচ্ছে। আমাজনের আগুনে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত পোর্তো ভেলহোতে পাঠানো হয়েছে ৭০০ সেনা।
এর আগে শনিবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো অ্যামাজনের আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী মাঠে নামানোর ঘোষণা দেন। ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ খ্যাত অ্যামাজনকে বাঁচাতে বিশেষ কোনো আগ্রহ না দেখানোয় বিশ্বজুড়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
ব্রাজিল স্পেস রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কালে অ্যামাজনের গভীর জঙ্গলে এই নিয়ে প্রায় ৭২ হাজার ৮৪৩ বার আগুন লেগেছে; যা গত বছরের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেশি।
ব্রিটেনভিত্তিক এই গণমাধ্যমটির দাবি, অ্যামাজন বনের আগুন থেকে আসা কালো ধোঁয়ার কারণে ব্রাজিলের সাও পাওলো শহর অন্ধকারে ঢেকে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে অ্যামাজনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্বাভাবিক হলেও গবাদিপশুর চারণভূমি সৃষ্টি করতে এর অনেক এলাকায় ইচ্ছা করেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় পরিবেশবিদদের ধারণা, এই আগুন প্রাকৃতিক কারণ নয়। অ্যামাজনের এই আগুনের পিছনে রয়েছে মানুষের ষড়যন্ত্র। চাষ ও বাসের জমি পাওয়ার জন্য স্থানীয় লোকজন জঙ্গলের গাছ কাটা ও আগুন ধরানো শুরু করেছে।



