sliderস্থানিয়

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নারু উৎপাদন: শিশুশ্রমে জড়িত কালিয়াকৈরের একটি কারখানা

আলমগীর হোসেন,গাজীপুর: গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার আইস মার্কেট এলাকা।
বাহির থেকে দেখলে সাধারণ এক নারু তৈরির কারখানা মনে হলেও, ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা যায় ভিন্ন বাস্তবতা
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, চারপাশে ময়লা-আবর্জনা, আর সেই পরিবেশেই প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে জনপ্রিয় খাদ্যপণ্য নারু।

এখানে কাজ করছে অল্পবয়সী শিশু শ্রমিকরা।
যারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুড়, চিড়া ও নারু তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকে।
শিশুশ্রম নিষিদ্ধ থাকলেও মালিকপক্ষের কোনো ভয় বা বিবেকবোধ দেখা যায় না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রথম মালিক মাসুদ আলম ও দ্বিতীয় মালিক আশিকুর রহমান।
তিনি নারু উৎপাদনের জন্য বিএসটিআই অনুমোদন পাননি।
বিএসটিআইয়ের কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি দেখান কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্স।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—
ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে কি খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা যায়?
আইন অনুযায়ী, খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য বিএসটিআই অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বলেন— “এই কারখানায় ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানো হয়।
তাদের সুরক্ষা নেই, স্বাস্থ্যবিধির কোনো ব্যবস্থা নেই।
আমরা বহুবার বলেছি, কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নেয় না।”

আরেকজন স্থানীয়, বাসিন্দা মোছা. সায়েরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “মাছি-ময়লা আর দুর্গন্ধে পুরো এলাকা ভরে থাকে। এই পরিবেশে খাবার তৈরি হওয়া মানে মানুষকে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দেওয়া।”

সচেতন মহল বলছেন— অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং শিশুদের দিয়ে কাজ করানো দুই-ই আইনের পরিপন্থী ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
তাদের দাবি, এমন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

“এভাবে তৈরি খাবার খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, পেটের রোগসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, শিশুশ্রম সমাজে মানবতার প্রতি বড় আঘাত।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ কারখানায় অনুমোদন ছাড়াই নারু উৎপাদন ও বিক্রি চলছে। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন— “আইন থাকলেও তদারকি না থাকায় এসব বেআইনি কাজ অব্যাহত আছে।
দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে যাবে।”

সবশেষে দেখা যায়— অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, শিশুশ্রম, অনুমোদনহীন উৎপাদন—
এই তিনটি অপরাধের মিশ্রণে প্রশ্নের মুখে কালিয়াকৈরের এই নারু কারখানা।
এখনই প্রয়োজন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ,যাতে জনস্বাস্থ্য ও শিশুর ভবিষ্যৎ—দুটিই সুরক্ষিত থাকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button