উপমহাদেশশিরোনাম

অস্ত্র ক্রয়ে বিপাকে ভারত!

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অস্ত্র ক্রয়ের পদ্ধতিগত নানা ত্রুটি ও জটিলতা। গত বছর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের পদ্ধতির ওপর প্রস্তুতকৃত ২৭টি পয়েন্টযুক্ত এক আভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ভারতের সমরাস্ত্র ক্রয় ধারাবাহিকভাবে বাঁধাগ্রস্ত হয়ে আসছে।
এর পেছনের কারণ হচ্ছে- সুনির্দিষ্ট কারো জবাবদিহিতা না থাকা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা, পদ্ধতিগত ত্রুটি, পুনরাবৃত্তি, মন্তব্য প্রদানে সময়ক্ষেপণ, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় নেয়া, এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরা, যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব, সমন্বয়হীনতা, প্রকল্প ভিত্তিক প্রস্তাবনার ঘাটতি এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেয়ে ভুল খোঁজার প্রবণতা।
২০১৪ সালে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘মেইক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি ঘোষণা করে ভারত সরকার। কিন্তু প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে এই সিদ্ধান্ত ব্যর্থ হয়েছে বা প্রত্যাশিত সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। গত তিন বছরে ১৪৪টি চুক্তি হলেও সঠিক সময়ে শতকরা ৮-১০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নয়টি ধাপে অস্ত্র ক্রয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কারণে বেশি সময় লাগছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দেরী হচ্ছে।
প্রথমে প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়, অস্ত্র নির্মাতারা জানার পর বিক্রির মূল্য তালিকা পৌঁছায়। পরে একটি অর্থনৈতিক কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে ছাড়পত্র দেয়। এসব করতে শেষ তারিখের পরও আরো আড়াই থেকে সাড়ে ১৫ গুণ বেশি সময় লেগে যায়।
সদর দপ্তরে প্রথম সমস্যা তখন থেকেই শুরু হয় যখন ব্যক্তিগত অস্ত্র নতুনকরে কেনার প্রশ্ন আসে। সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমানবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড তাদের চাহিদা জানায়। প্রতিরক্ষার সীমিত বাজেটের কারণে কাকে কতটুকু বরাদ্দ দেয়া হবে এবং কোন প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে তা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়। অনেকগুলো বিভাগের চাহিদা একটি বিভাগের পূরণ করতে গিয়েও ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হয়।
বেশি সময় নেয়া, দায়িত্বে অবহেলা ও সময়ের কাজ সময়ে না হওয়ায় নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। দাম বেড়ে বা কমে যাওয়া, নতুন প্রয়োজন তৈরি হওয়ার ফলে বদলে যায় চাহিদা। ১৭ সপ্তাহে যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে; সেই একই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৪২২ সপ্তাহ লেগে যাচ্ছে। ফলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসারদের মানসিকতার পরিবর্তন ও দায়িত্ব সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
টেকনিক্যাল অবারসাইট কমিটি ( টিওসি), কস্ট নেগোসিয়েশন কমিটি (সিএনসি) নিয়মের চেয়ে বেশি সময় নিয়ে নেয়। তারপর অর্থমন্ত্রনালয়, ক্যাবিনেট কমিটি অফ সিকিউরিটির সাথেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা ও চাহিদা সংক্রান্ত ব্যাপারে যোগসাজশের প্রয়োজন হয়। এমনও হয় যে এক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা-ধারণাপত্র-চুক্তির ব্যাপারে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের যথেষ্ট ধারণা থাকে না। লালফিতার দৌরাত্মও এখানে দেখা যায়, ফলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজটা জটিল হয়ে যায়।
গত সপ্তাহে ১৭ বছর পর বিমান বাহিনী ১২৬টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের চাহিদা জানায় কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ মেইক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে ১০০ যুদ্ধ বিমান বানানোর পরিকল্পনা জানিয়ে, কেনার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
এনডিটিভি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button