অভিষেকেই চমকে দিলেন মিরাজ:চালকের আসনে বাংলাদেশ

আর দশটা দিনের মতো আজকের দিনটা সাধারণ ছিলো না মিরাজের কাছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্যাপ মাথায় পরবেন তিনি, এই উত্তেজনায় হয়তো গত রাতটা ভালো মতো ঘুমাতেও পারেন নি। কিন্তু তখনও কি জানতেন, আজকের এই দিনটিই তার জীবনে এমনভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে?
নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচটাকে স্বপ্নের মতো করে তুললেন মিরাজ নিজেই। অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশকে বসিয়ে দিলেন চালকের আসনে। সেই সাথে নিজেও ঢুকে গেলেন রেকর্ডবুকে। প্রথম দিন শেষে সাত উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২৫৮ রান।
টেস্টের প্রথম দিন টস হেরে ফিল্ডিং করতে নামে মুশফিকের দল। ইংল্যান্ডের পাহাড় সমান রানের নিচে চাপা পড়ার যে ছোট্ট একটা ভয় সবার মনে উঁকি দিচ্ছিলো শুরুতেই তা মিথ্যা প্রমাণিত করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইংলিশ ওপেনার বেন ডাকেটকে সরাসরি বোল্ড আউট করে ইংল্যান্ড শিবিরে প্রথম আঘাতটা হানেন তিনিই।

কিছুক্ষণ পর সাকিবও তার ঘুর্ণিজাদুতে ইংলিশ অধিনায়ক কুককে সাজঘরে পাঠান। দুই ওপেনারকে হারিয়ে ইংল্যান্ড শিবির যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তখন পরের ওভারে আবারও আঘাত হানেন মিরাজ। এবার তার শিকার গ্যারি ব্যাল্যান্স। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
এরপর ইংল্যান্ড তরীর হাল ধরেন জো রুট ও মঈন আলী। দুজনে মিলে ৬২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ইংল্যান্ডকে নিয়ে যান ৮৩ রানের দোরগোড়ায়। এরপর মনে আবার আবির্ভূত হন মিরাজ। সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে ব্যক্তিগত ৪০ রান করা জো রুটকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি।
দলীয় ১০৬ রানে বেন স্টোকসকে সাজঘরে ফেরত পাঠান সাকিব আল হাসান। এরপর দলের হাল ধরেন মঈন আলী ও বেয়ারস্টো। দুজনে মিলে ৮৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলে বাংলাদেশ শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেন। এবারও ত্রাণকর্তার ভূমিকায় সেই মিরাজ। ব্যক্তিগত ৬৮ রানে মুশফিকের সহায়তায় মঈন আলীকে ফেরান তিনি।
এরপর বেয়ারস্টোও আর বেশিক্ষণ থাকতে পারেন নি। দলীয় ২৩৭ রানে মিরাজের বোল্ডের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। দিন শেষে সাত উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২৫৮। ৩৬ রান নিয়ে ওকস এবং ৫ রান নিয়ে আদিল রশিদ ক্রিজে রয়েছেন।
বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। আর বাকি দুইটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। বাকিরা কেউ উইকেট পাননি।



