বিবিধশিরোনাম

অভিবাসন বন্ধ হলেও ইউরোপে বাড়বে মুসলমানের সংখ্যা

অভিবাসন প্রক্রিয়ার বর্তমান বৈধ অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী দশকে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ হবে মুসলমান। বর্তমানে ইউরোপে বসবাসকারীদের ৫ শতাংশ মুসলিম। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিবাসনের তিনটি স্তর, শূন্য আগমন, উচ্চ ও মাঝারি মাত্রায় আগমনের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করেছে দ্য পিউ রিসার্চ সেন্টার। গবেষণার শিরোনাম ছিল, ‘ইউরোপের বর্ধিত জনসংখ্যা’।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইউরোপে অভিবাসন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার পরেও, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮টি রাষ্ট্রে বিশেষ করে নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডে ২০১৬ সালে ৪.৯ শতাংশ মুসলমানের যে সংখ্যা ছিল তা বেড়ে ৭.৪ শতাংশে দাঁড়াবে।
জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তু সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে ইউরোপ ১০ লক্ষ্যের বেশি অভিবাসী এবং শরণার্থী গ্রহণ করেছে। অভিবাসীদের বেশির ভাগই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের হওয়ায় ডানপন্থী কিছু রাজনৈতিক দল মুসলিমবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। সরকারি তথ্য এবং অন্যান্য মুসলিম সংখ্যা বাড়ার কারণ সম্পর্কে পিউ তার গবেষণা রিপোর্টে বলেছে, মুসলিমদের মধ্যে জন্মের হার বেশি, অন্যদের তুলনায় মুসলিমরা গড়ে ১৩ বছরের ছোট। ২০১৫-২০১৬ সালের পূর্বাবস্থায় অভিবাসীদের প্রবাহ ফিরে আসাকে অভিবাসী আগমনের যে মাঝারি ধাপ বলে মনে করা হয়।
অবস্থা অব্যাহত থাকলে, আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ মুসলমানের বর্তমান সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ১১. ২ শতাংশে দাঁড়াবে।
গবেষণার ক্ষেত্রে তৃতীয় ধাপটি তৈরি হয়েছে ২০১৫-২০১৬ সালে আসা মুসলিম শরণার্থীদের প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে। পিউ বলেছে, ওই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মুসলিম সংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপে ১৪ শতাংশে উন্নতি হবে। তারপরও মুসলমানদের অবস্থান খ্রিষ্টান ও ধর্মহীনদের পরেই থাকবে।
ইসলাম হবে বিশ্বের বৃহত্তম ধর্ম
খবরে বলা হয়েছে, ২০৭০ সালে ইসলাম বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মে পরিণত হবে। এতে বলা হয়, অভিবাসী আগমন ও ইউরোপের জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় এ মহাদেশের জনসংখ্যা ২০১৬ সালে যেখানে ৫২ কোটি ১০ লাখ ছিল সেখানে ২০৫০ সালে দাঁড়াবে ৪৮ কোটি ২০ লাখ। মাঝারি ধাপের অভিবাসী আগমন অব্যাহত থাকলে সেসময়ে জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৫১ কোটি ৭০ লাখ আর উচ্চহারে অভিবাসী আগমন করলে তা হবে ৫৩ কোটি ৯০ লাখ।
এএফপি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button