‘অপরিপক্ক’ সংসদ অবিলম্বে ভেঙে দেয়া উচিত : মেজর হাফিজ

সরকার ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে সুপ্রিমকোর্ট বর্তমান অপরিপক্ক (ইমম্যাচিউরড) সংসদ ভেঙে দেয়ার অবজারভেশন দেবেন বলে প্রত্যাশা করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।
তিনি বলেন, আমরা জানি আদালত সংসদ ভেঙে দিতে পারে না। কিন্তু অবজারভেশন দিতে পারেন। আদালত যেহেতু বর্তমান অনির্বাচিত সংসদকে অপরিপক্ক (ইমম্যাচিউরড) বলেছেন সেজন্য আদালত এ সংসদকে ভেঙে দেয়ার অবজারভেশন দিলে তা ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। জনগণ প্রত্যাশা করে বর্তমান অপরিপক্ক সংসদ অবিলম্বে ভেঙে দেয়া উচিত।
বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আজ বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিল এবং গণতান্ত্রিক যাত্রা’ শীর্ষক সভায় কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
প্রধান বক্তা ছিলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপির যুগ্মমহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক সৈয়দ সাদাত আহম্মেদ ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন।
আরো বক্তব্য দেন, কল্যাণপার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ মাহবুব, অ্যাডভোকেট মুবিনুল হক, যুগ্মমহাসচিব নুরুল কবির ভুঁইয়া পিন্টু, ঢাকা মহানগর সভাপতি আলী হোসেন ফরায়েজী, দফতর সম্পাদক আলামিন ভুঁইয়া রিপন প্রমুখ।
মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এ রায়ের জন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আমরা এতোদিন বলে আসছিলাম দেশে রাজনীতি নেই, গণতন্ত্র নেই। কিন্তু কেউ গা করেনি। এখন আদালত সে কথাটিই বলেছেন। আদালত বর্তমান সংসদকে ইমম্যাচিউরড বলায় তারা ক্ষিপ্ত। অথচ সবাই জানে এ সংসদের এমপিদের অর্ধেকের বেশি বিনা ভোটে এমপি হয়েছেন। বাকিরাও পাঁচ শতাংশের বেশি ভোট পাননি। সেই সংসদের দণ্ডপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা এখন প্রধান বিচারপতিকে আদালত ছেড়ে চলে যেতে দিন তারিখ ঠিক করে দিচ্ছেন। এ সংসদের দুজন এমপি খুনের দায়ে অভিযুক্ত। একজন জেলও খাটছেন। তারা বিচারপতিদের চাকরি থাকবে কি থাকবে না তা ঠিক করতে চান।
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে জিয়াউর রহমান নিয়ে যেসব কথা আছে তাতে আমরা ব্যথিত। তবে এ রায় আলোর পথ দেখাচ্ছে।
তিনি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের প্রধান বিচারপতির সাথে সাক্ষাৎ ও রায় নিয়ে আলোচনার বিষয়ে সমালোচনা করে বলেন, এ ঘটনায় আমরা আতংকিত, আশংকিত। তারা যা করছে জনগণ তা বোঝে, জনগনকে বোকা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বর্তমান সংসদে সবচেয়ে কুলসিতরা রয়েছে। যাদের অর্ধেকের বেশি কোনো ভোট ছাড়াই এমপি হয়েছেন। এটা কোনো সংসদ হলো? আদালত বর্তমান সংসদ নিয়ে সঠিক কথাই বলেছেন। আদালত সরকারের শেষ ঘণ্টা বাজিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম আদালত ১১৫ ও ১১৬ অনুচ্ছেদ বাতিল করে নিম্ন আদালত স্বাধীন করে দেবেন। কিন্তু সেটা হয়নি। জনগণ নিম্ন আদালতের স্বাধীনতা প্রত্যাশা করে।
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে বিচারপতি খায়রুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তিনি আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হওয়ার মত অপরাধ করেছেন।
তিনি বলেন, সরকার যে প্রচেষ্টা শুরু করেছে তাতে মনে হচ্ছে তারা প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিতে চায়। শুধু উচ্চ আদালত নয়, নিম্ন আদালতেরও স্বাধীনতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।




