জাতীয়শিরোনাম

অপপ্রচার বন্ধ করে জনদাবি মেনে নিন-সুলতানা কামাল

অপপ্রচার বন্ধ করে, জনদাবি মেনে নিয়ে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে বাঁচাতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে রোববার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে সোমবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান তিনি।
সুন্দরবনের পাশে রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নাগরিকদের সম্পর্কে রোববার প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রী বলেন- প্রতিবাদকারীরা বিদ্যুৎকেন্দ্র বিষয়ে কোনো সঠিক তথ্য, প্রমাণ ও যুক্তি ছাড়াই তাদের বিরোধিতা ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই বক্তব্য প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ’প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য একেবারেই সত্য নয় এবং তা আন্দোলনকারী নাগরিক সমাজের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত অপপ্রচারের শামিল। আমি তার ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অসত্য বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি ও তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
সুলতানা কামাল বলেন, দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদসহ সব মহল তাদের বিজ্ঞান-ভিত্তিক যুক্তি দিয়ে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দু’ভাবেই সুন্দরবনের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করবে। মাননীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গত ১৯ জুন বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও যুক্তি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন যার কোনোটিই সরকার পক্ষ খণ্ডন করতে পারেনি। এই সভার শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী নিজেকে ‘কোনো পক্ষের নয়, দুই পক্ষের মাঝখানের’ বলে অভিহিত করেন ও আরো আলোচনার আশ্বাস প্রদান করেন। অথচ তার কয়েকদিনের মধ্যেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও নির্মাণকারী কোম্পানির মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের চুক্তি সই করা হয়েছে। অর্থাৎ মন্ত্রী ’মাঝখানের’ অবস্থান ত্যাগ করেছেন ও নাগরিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন।
সুলতানা কামাল আরো বলেন- এটি সবাই জানেন যে, সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দুরত্বে প্রস্তাবিত বিদ্যুকেন্দ্রটি সরিয়ে নিতে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশের জনগণ ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রথম থেকেই সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছে। কারণ একাধিক দেশী ও বিদেশী বিশেষজ্ঞ তথ্য ও যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, সরকার কর্তৃক অনেক আগেই ঘোষিত সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ‘বাফার জোন’ থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত। কেন্দ্র থেকে বিষাক্ত গ্যাস ও রাসায়নিক বর্জ্য নিশ্চিতভাবেই সুন্দরবনের গাছপালা, তৃণলতা-গুল্ম, পশু-পাখি, জলজ প্রাণীসহ অন্যান্য জীব-বৈচিত্র ধ্বংস করবে। বনের ওপর নির্ভরশীল ২/৩ কোটি মানুষের জীবিকা বিনষ্ট হবে। সারা দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান সাইক্লোনজনিত ধ্বংসলীলার চারণভুমিতে পরিণত হবে।
সুলতানা কামাল বলেন- সরকার এখন বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে নানাবিধ অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয়, অসত্য তথ্য ব্যবহার করে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ ও দেশবাসীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। মন্ত্রীর বক্তব্যই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।
এছাড়া অধিকতর উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- সরকার নিয়ম ভঙ্গ করে পরিবেশগত সমীক্ষা প্রণয়নের অনেক আগেই জমি অধিগ্রহণ করেছে। প্রকল্প বিষয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত গ্রহণ করা হয়নি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়টি প্রকৃতি-সংরক্ষণ আইন, নীতি-নিয়ম ও কনভেনশণকে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button