
এইচ.কে.রফিক উদ্দিন, উখিয়া : কক্সবাজারের উখিয়া শরণার্থী শিবির এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠছে একাধিক আধুনিক ফুটবল টার্ফ। রোহিঙ্গাদের অর্থায়নে নির্মিত এসব টার্ফকে কেন্দ্র করে নিয়মিত গণজমায়েত হচ্ছে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা মাদক কারবারিদের অর্থ ব্যবহার করে একটি অসাধু চক্র এসব টার্ফ নির্মাণ ও পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে বিনোদনের আড়ালে লাখ লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে মেলামেশার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অনুসন্ধান ও তথ্যসূত্র জানায়, এসব টার্ফের অর্থায়নের পেছনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অবৈধ কর্মকাণ্ডের অর্থ রয়েছে। তবে কৌশলে টার্ফগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব স্থানীয় কিছু ব্যক্তির হাতে রাখা হয়েছে, যাতে এগুলোকে স্বাভাবিক ব্যবসা হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে ঘিরে মাদক কারবারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। সম্প্রতি টার্ফের মতো বিনোদনমূলক অবকাঠামো ব্যবহার করে নিয়মিত গণজমায়েত ঘটানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মধুরছড়া ও জামতলী এলাকাসহ অন্তত চারটি ফুটবল টার্ফ গড়ে উঠেছে। এসব টার্ফে দলবেঁধে রোহিঙ্গারা খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছে। থাইংখালী ক্যাম্প-১২ এলাকায় ‘আকতার’ নামের এক ব্যক্তির নির্মিত একটি টার্ফে নিয়মিত বড় আকারের জমায়েতের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পার্শ্ববর্তী লোকজনের দাবি, বন বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখল করেই এসব টার্ফ নির্মাণ করা হয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আকতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে অনুমতি না থাকলেও মৌখিকভাবে বলা আছে। এটি বনের জমি নয়, খতিয়ানী জমি।
তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল জানান, আকতারের টার্ফটি বনের জমিতে। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কোথাও খতিয়ানী জমি, কোথাও বনের জমির মিশ্রণ রয়েছে।
হাতে আসা একটি কল রেকর্ডে শোনা গেছে, ক্যাম্প-১২ এর সিইসিকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে মৌখিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন,“আমি বিষয়টি অবগত নই। অনুমতির বিষয়টি কমিশনার মহোদয় জানবেন। যেহেতু তথ্য দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (যুগ্মসচিব) আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, লিখিতভাবে কাউকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আগে জমির শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে। বনের জমি হলে বন বিভাগকেও অবগত করতে হবে। নির্দিষ্ট তথ্য দিলে আমরা তদন্ত করব।
ক্যাম্প-১২ এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার জহির উদ্দিন বলেন, টার্ফ নির্মাণের বিষয়ে আমরা আগে জানতাম না। হঠাৎ দেখি সেখানে রোহিঙ্গারা খেলাধুলা করছে। সংঘাত হলে আমাদের অবশ্যই যেতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হবে।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন,খেলাধুলা বা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা আশঙ্কা করছেন, অনুমোদনহীন এসব টার্ফ ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।




