অনলাইন লেনদেনে চুরি ঠেকানো সম্ভব-অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশে দুর্নীতি কমানোর জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন করা হয়েছে, এ জন্য আইন রয়েছে, এরপরও দুর্নীতি দমনে খুব একটা এগোনো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে অনলাইনে অর্থ লেনদেন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা। অনলাইন লেনদেনে চুরি ঠেকানো সম্ভব। এসব ব্যবস্থা চালু করা হলে দুর্নীতি কমানো সম্ভব। তিনি সরকারের সব বিভাগকে যার যার জায়গা থেকে যতটা সম্ভব কাজের ক্ষেত্রে অনলাইন পদ্ধতি চালু করার আহবান জানান।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হোটেল সোনারগাঁওয়ে রোববার সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি) আয়োজিত ‘বৈষম্য ও দারিদ্র্য নিরসনে বাজেট ও অন্যান্য নীতি-কাঠামোর ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী একথা বলেন। সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি সিলেটের একটি কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলাম। ওই কলেজে আগে যেখানে ভর্তি কার্যক্রম থেকে আয় হতো আট লাখ টাকা, সেখানে যখন অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি চালু করা হলো, সেই আয় বেড়ে হলো ৮৩ লাখ টাকা। অনলাইনে লেনদেন হলে চুরি ঠেকানো সম্ভব। চোর ধরা যায় এবং অর্থ যার কাছে যাওয়ার কথা তার কাছেই যায়। ফলে সরকার পরিচালনায় বাজেটের অপচয় হয় না।
বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অর্থমন্ত্রীকে এক কোটি টাকা কর দিতে পারেন এমন ৩০ হাজার করদাতা চিহ্নিত করার প্রস্তাব দেন তিনি। এই প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এটি চমৎকার প্রস্তাব। কিভাবে এমন করদাতাদের চিহ্নিত করা যায়, সে পদক্ষেপ তিনি নেবেন।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের আরকরের আওতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন আয়কর দাতার সংখ্যা ১২ লাখ। এই সরকারের চলতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আয়কর দাতার সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রাইমারি ও উচ্চশিক্ষার পদ্ধতি ভালো। কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা ভালো নয় বলে মনে হয়। এ নিয়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছেন বলে জানান।
মূল প্রবন্ধে ড. বিনায়ক সেন বলেন, এমডিজি থেকে এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে এমডিজি’র অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা, সেই সাথে উন্নয়নের পথে নতুন চ্যালঞ্জগুলো চিহ্নিত করা, যেমন সম্পদের সুষম বণ্টন, অক্ষমতা দূর করা, একই সঙ্গে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান, শান্তি ও সুবিচার নিশ্চিত করা। আর এ জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় নেয়া যেতে পারে।’
তিনি বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা গেলে এ সময়ের মধ্যে দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব।




