sliderখেলাশিরোনাম

৩ শতাধিক রান করেও জিততে পারলো না বাংলাদেশ

শুরুতে পর পর ৩ উইকেট পতনের পর মনে হচ্ছিল খুব সহজেই জিতে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি হয়নি; বাজে ফিল্ডিং ও ক্যাচ মিসের মহড়ার দিনে বড় ব্যবধানে সফরকারীদের হারালো স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। বলা যায়, সিকান্দার রাজা এবং ইনোসেন্ট কাইয়া জুটির জোড়া সেঞ্চুরির কাছে তিন শতাধিক রান করেও হেরেছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৩০৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪৮.২ ওভার খেলে ৫ উইকেটের দারুণ এ জয় পায় স্বাগতিকরা।
তিন শতাধিক রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারায় জিম্বাবুয়ে। ৬ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের প্রাথমিক বিপর্যয় কাটায় কাইয়া এবং ওয়েসলি মাধবেরে। এই দুইজন ৫৬ রানের জুটি গড়েন।
মাধভেরে ১৯ রান করে ফিরলে ভাঙে জুটিটি। এরপর রাজাকে নিয়ে ১৯২ রানের অসাধারণ একটি জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে জয়ের বন্দরে রেখে আউট হন কাইয়া। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ১২২ বলে ১১০ রান। কাইয়া কিছুটা ধীরস্থির ইনিংস খেললেও রাজা বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। রাজা করেন ১০৯ বলে ৩৫ রান।
আর রাজার সাথে পরে জুটি বাধা জঙ্গওয়ে ১৯ বলে ২৪ রান করে আউট হয়ে ফিরে যান। এরপর রাজার সাথে ম্যাচ সমাপ্ত করতে নামেন মিল্টন সুম্বা। তিনি ২ বলে ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজ, শরিফুল, মেহেদি ও মোসাদ্দেক একটি করে উইকেট পান। আরেকটি উইকেটের পতন হয় রান আউটের মাধ্যমে।
আর বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে ধীরগতিতে রান তোলে টাইগারদের দুই ওপেনার। পরে সময়ের সাথে রানের গতি বাড়াতে থাকেন তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। প্রথম দিকে লিটনের চেয়েও বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন তামিম। ৪৯ বলেই করেন ৪০ রান। তবে এরপর ফিফটি ছুঁতে এবং পরের ১০ রান করতে খেলেন আরো ৩০ রান। ফিফটি ছোঁয়ার পর বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৮০০০ রানের মাইলফলক গড়েন তামিম। ব্যক্তিগত ৫৭ রানে তামিম স্পর্শ করেন ওয়ানডেতে হাজার রানের মাইলফলক।
মাইলফলক স্পর্শ করার পর ৯ চারে ব্যক্তিগত ৬২ রানের মাথায় সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তামিমের বিদায়ের পর মাঠে নামেন আনামুল হক বিজয়। ২০১৯ সালের জুলাইয়ের পর আবার ওয়ানডে ফরম্যাটে মাঠে নামেন বিজয়।
লিটনের সাথে দারুণ ছয় ওভারের মধ্যে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন বিজয়। এরমধ্যে অবশ্য লিটন ব্যক্তিগত ফিফটি ছুঁয়ে শতকের পথে ছুটতে থাকেন। ৭৫ বলে ফিফটি ছোঁয়া লিটন পরের ১৪ বলে তোলেন ৩১ রান। ৮৯ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে ৮১ রান করে পায়ের পেশিতে টান পড়ায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।
লিটন ফিরলেও চারে নামা মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে দারুণ গতিতে ছুটতে থাকেন বিজয়। ৯৬ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান। এরমধ্যে ৪৭ বলে ফিফটি তুলে নেয়া বিজয় ৬২ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৭৩ রান করে ভিক্টর নিউইচির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন। অভিষিক্ত এই জিম্বাবুইয়ানের এটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে প্রথম উইকেট।
বিজয় ফিরলেও টাইগারদের রানের গতি সচল রাখেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরমধ্যে মুশফিকও ফিফটি তুলে নেন। আর রিয়াদ করেন ১২ বলে ২০ রান। ৪ মারেন চারটি।

Related Articles

Back to top button