sliderস্থানীয়

২২ বছর পর প্রাণের বন্ধনে আনন্দ উৎসব 

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : এসএসসি পরীক্ষার পর পেরিয়ে গেছে ২২টি বছর। ১৬ বছরের সহপাঠীরা এখন ৩৮ বছরের ব্যক্তি। কৈশোরের চেহারা বদলে গেছে সংসার ও পেশার ভারে। তারপরও ‘প্রাণের বন্ধনে, বন্ধুত্বের টানে” পুনর্মিলনীতে একত্র হয়েছিলেন তাঁরা।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা বন্ধু মহল এসএসসি ২০০১ ব্যাচের সংগঠনটি আয়োজন করে এই পুনর্মিলনীর।

শুক্রবার সকালে উপজেলার ডা: আব্দুর রহিম খান মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে এই মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপজেলার ১৭টি স্কুলের ২০০১ সালের এসএসসি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সহস্রাধিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত ও গীতাপাঠের মাধ্যমে দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে বিদ্যালয়ের সময়ের মতো জাতীয় সংগীতে সবাই অংশ নেন। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া মুখগুলো ফিরে আসে পরিচিতি পর্বে। পরে কেক কাটা, খাবার শেষে শিল্পীদের পরিবেশনায় নাচ-গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এছাড়াও আয়োজনের মধ্যে ছিল সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সদস্যদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্মৃতিচারণা, র‍্যাফল ড্র, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ নানা অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে অনেকেই এসেছিলেন স্বামী-স্ত্রী আর সন্তানের হাত ধরে। স্বামী ও দুই সন্তানদের নিয়ে ঢাকা থেকে এসেছিলেন এই ব্যাচের শিক্ষার্থী রোকসানা আক্তার। তিনি বলেন,‘স্কুলজীবন শেষ হয়েছে কবে! দীর্ঘ ২২ বছর পর এত বন্ধুকে একসঙ্গে কাছে পেয়ে কী যে আনন্দ লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে এসে দারুণ উপভোগ করলাম। দিনটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

এই ব্যাচের শিক্ষার্থী অহিদুল ইসলাম সাথে নিয়ে এসেছেন স্ত্রী মিতু ও সন্তানকে। উপস্থিত থাকতে পেরে মিতু বলেন, আনন্দিত এমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমার অনেক ভালো লাগছে।

আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও গ্রুপ এডমিন মোঃ রহুল আমীনের সভাপতিত্বে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে এশিয়া মহাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা অনুরাগী ও মানিকগঞ্জ পৌর সভার মেয়র মোঃ রমজান আলী, আয়োজক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল, ঘিওর ডি এন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবঃ শিক্ষক শচীন্দ্র নাথ মিত্র, শিক্ষক আব্দুর রহমান, রাম হালদার, সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ সামছুল আলম প্রমুখ।

উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব মো. ফরিদ মিয়া বলেন, ‘স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব কখনো ভুলে থাকা যায় না। তারা থাকে হৃদয়ের মাঝে। সেই সব প্রাণের বন্ধুদের সাথে একই ছায়াতলে বসার আমাদের প্রচেষ্টা মাত্র। এখান থেকে সামনের দিনগুলোতে সকলেই একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াবে এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।

Related Articles

Back to top button