sliderস্থানীয়

হরিরামপুরে সরিষা ফুলে মাতোয়ারা , শৈত্য প্রবাহে ক্ষতির আশংকায় কৃষক

জ. ই. আকাশ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠে মাঠে সরিষার হলুদ ফুলে ফসলের মাঠ হলুদ রঙে ছেঁয়ে গেছে। সরিষা ফুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা প্রকৃতি প্রেমিরা। দিগন্তজোড়া হলুদের রঙে মন মাতানো দৃশ্য ও মুগ্ধকর পরিবেশে যেকোনো প্রকৃতি প্রেমিকেই আকৃষ্ট করবে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও এ উপজেলায় সরিষার চাষ হয়েছে লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে এ মৌসুমে হলুদ প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিকেল হতে না হতেই ভীড় জমান প্রকৃতি প্রেমিরা। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে যতদূর চোখ যায়, ততদূর দেখা যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। অনেকটাই যেন হলুদ চাদরে ঢাকা পড়েছে প্রতিটি ফসলের মাঠ। শীতের রুক্ষতায়ও প্রাণের স্পন্দন নিয়ে এসেছে হলুদ সরিষার ফুলে।
হিমেল বাতাসে দোল খাওয়া এই হলুদ সমুদ্রে খাবারের সন্ধানে ছুটে বেড়ায় প্রজাপতির দল। মনের আনন্দে গুণগুণ শব্দে মধু সংগ্রহের জন্য এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ছুটে চলছে মৌমাছির দল। সরিষা ফুলের এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে সবুজ গাছে হলদু ফুলের মাঠে ভিড় করছেন হাজারও প্রকৃতি প্রেমিরা। মনোমুগ্ধকর এমন পরিবেশে স্মৃতির ডায়েরিতে এই দৃশ্যপট আগলে রাখতে মুঠোফোনে ছবি তুলছেন। ক্ষেতের আইল দিয়ে মনের আনন্দে ছুটে চলছেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু গত সপ্তাহ জুড়ে শৈত্য প্রবাহের ফলে ঘন কুয়াশায় মুখ থুবড়ে পড়েছে কৃষকের হাসি। কুয়াশায় সরিষা ফুল নষ্ট হয়ে ঝড়ে পরায় বিপাকে উপজেলার সহস্রাধিক সরিষা চাষী। ফুল থেকে যখন ফল ধরতে শুরু হবে তখনই শুরু হয় শৈত্য প্রবাহ। এতে দেখা দেয় অতিরিক্ত ঘন কুয়াশা। যা সরিষার জন্য অধিক ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বারি ১৪, ৯, ১৫, ১৭, ১৮, টরি ৭, বিনা-৯, ১১ জাতের সরিষা চাষ করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বারি-১৪। সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৪০২০ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হলেও চাষ করা ৪৮৭৩ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৩০৬ মে.টন।
উপজেলার ইজদিয়া গ্রামের কৃষক মনসের বলেন, আমি ৪ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। প্রথম দিকে পুরোপুরি ফুল আসার পরেই অনেক মানুষ আইছে সরিষা ফুল দেখতে। এতে করে তাদের চলাফেরায় অনেক সরিষার গাছে ভেঙ্গে গেছে। ফুলও ঝড়ে পড়েছে। তাদের সখ অনেক সময় আমাদের জন্য কষ্টের কারণও হয়। তারপরেও কিছু বলতে পারিনা। অনেক দূরদূরান্ত থেকে অনেক ছেলেমেয়ে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে এই শৈত্য প্রবাহে ঘন কুয়াশায় বেশি ক্ষতি হইল। ফুলগুলো ঝড়ে যাচ্ছে। অনেক ফুল গাছ থেকে পচে পচে ঝড়ে পড়ছে। যেভাবে গাছে ফুল হইছিল, তাতে আমরা আশানুরূপ ফলন পাব না। ঘন কুয়াশায় না পড়লে অনেক ভাল ফলন হতো।
বাল্লা গ্রামের সাহেব আলী বলেন, আমি গত বছর ৩০ মণ সরিষা পাইছিলাম। এবছরও ৩ বিঘা বুনছিলাম। কিন্তু গাছের চেহারা অনেক ভাল ছিল। কিন্তু টানা ঘন কুয়াশায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। যে পরিমাণ আশা করছিলাম, তার অর্ধেক হয় কিনা সন্দেহে আছি। কুয়াশায় সরিষার প্রচুর ক্ষতি হয় গেল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গফ্ফার জানান, আমরা আগে থেকেই কৃষকদের সচেতন করে দিয়েছি, পরামর্শ দিয়েছি। সময়োপযোগী কীটনাশক ব্যবহার করতেও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, ঘন কুয়াশায় এখন পর্যন্ত সরিষার তেমন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।”

Related Articles

Back to top button