sliderস্থানীয়

সুনামগঞ্জে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে পিআইসি কমিটি গঠনে অনিয়ম – দূর্নীতি

আমির হোসেন,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মোফাজ্জল হোসেন এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, গত ৫ই জানুয়ারি মাটিয়ান-শনিসহ ছোট-বড় ২৩টি হাওরে ৮২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়। এতে প্রকৃত কৃষকদের বাঁধ দিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই বাড়িতে কৌশল করে দু’টি করে মোট ৪টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের সুযোগ না দিয়ে বহিরাগত অদক্ষ লোকদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। মাটিয়ান হাওরে ৩৯টি, শনির হাওরে ১০টি, গুরমার বর্ধিতাংশে ২৫টি, মহালিয়া হাওরে ৪টি, হালির হাওরে ২টি এবং আঙ্গারওলী হাওরে ২টি। নিয়ম অনুযায়ী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে জরিপ কাজ শেষ করে ১৫ই ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা। ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো হাওরে কাজ শুরু হয়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাটাবুকা গ্রামের জুনায়েদ মিয়া বিভিন্ন কৌশলে একাই দু’টি পিআইসি বাগিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রীও নিয়েছেন ১টি। তিনি বর্ধিত গুরমা ৫নং পিআইসি কমিটির সভাপতি। তার ছোট ভাই মুবাশ্বির ৬নং পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব। চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী নাজমা ৪নং পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব। অন্যদিকে একই গ্রামের জিয়া উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে সুজাত ৮নং পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব, আরেক ছেলে এনায়েত হোসেন ১১নং পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব। ৪, ৫, ৬, ৮ ও ১১নং পিআইসি কমিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিবকে (এসও) মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগে করেন।

এ বিষয়ে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, যাদের বাঁধের কাজ করার সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা নেই তাদেরকে পিআইসি কমিটিতে রাখা হয়েছে। এ ইউনিয়নে আমার ওয়ার্ডেই পিআইসি বাঁধ বেশি। কিন্তু কাজ দেয়া হয়েছে অন্য জায়গার লোকজনদের।

পরিবেশকর্মী আব্দুল আমিন বলেন, এ বছর নীতিমালা না মেনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব (এসও) স্থানীয় দালালের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে লাখ টাকার বিনিময়ে প্রতিটি পিআইসি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। যা নীতিমালা বহির্ভূত।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব (এসও) মনির হোসেন বলেন, এমন একটি অভিযোগ আমার হাতেও এসেছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নিয়ে অভিযোগকারীদের দেখা করার পরামর্শ দেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা পারভীন বলেন, যারাই পিআইসি বাঁধ পাচ্ছেন না, তারাই সকাল-বিকাল অভিযোগ দিচ্ছেন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button