সীমাহীন সাহসই ছিল সফিকুল হক চৌধুরীর মূল শক্তি : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘আশা’র প্রতিষ্ঠাতা জনাব সফিকুল হক চৌধুরী আকস্মিকভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশে এবং বিদেশের অসংখ্য গুণগ্রাহী শোকাহত। ক্ষুদ্রঋণের জগতে তিনি আকস্মিকভাবে প্রবেশ করেছিলেন। এব্যাপারে তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক প্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু তাকে তিনি কোনো বাধা হিসাবে গ্রহণ করেননি। যে কাজের জন্য তিনি মনস্থির করেছিলেন সে-কাজে তিনি দৃঢ়ভাবে এগিয়ে গেছেন। তাঁর সীমাহীন সাহসই ছিল তার মূল শক্তি। তাঁর সাহস, নেতৃত্ব এবং ব্যবস্থাপনার দক্ষতা তিনি দেরীতে ক্ষুদ্রঋণের কর্মকাণ্ডে যোগ দিলেও তাঁকে অতিদ্রুত দেশের সবচাইতে অগ্রগামী দুইটি প্রতিষ্ঠানের কাতারে নিয়ে যেতে পেরেছিল।

তিনি শুধু দ্রুত গতিতে দেশের আনাচে কানাচে ক্ষুদ্রঋণ সম্প্রসারণ করতে পেরেছিলেন তা-ই নয়- তিনি অসম্ভব সাহস নিয়ে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করার জন্য কল্পনাতীত রকমের প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনে ক্ষুদ্রঋণ সঠিক মানুষের হাতে পৌছানোর পরীক্ষানিরীক্ষা করে গেছেন। এবং তিনি সফল হয়েছেন।

দেশে ‘আশা’র মতো এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার পরেও তিনি পৃথিবীর নানা প্রত্যন্তে বিস্তৃত বহু দেশে ‘আশা’র কাঠামোতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সংগে যৌথভাবে নানাদেশে ক্ষুদ্রঋণ পৌছে দেবার দায়িত্ব নিয়েছেন। ক্ষুদ্রঋণে মোটেও উৎসাহী ছিলেন-না দেশ বিদেশের এমন বহু একাডেমিক এবং দাতা-সংস্থার নেতৃবৃন্দ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণকে তিনি ক্ষুদ্রঋণে বিশ্বাসী করে তাঁদের সহযোগী করে নিয়েছিলেন।

দেশে বিদেশে তাঁর কর্মসূচির উপকারভূগী বিশাল জনগোষ্ঠী, তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অসংখ্য কর্মীবাহিনী, পৃথিবীর নানা দেশে ছড়ানো অসংখ্য কর্মীবৃন্দ– যাঁরা তাঁর লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়োজিত আছেন, এবং তাঁর বন্ধুবর্গের সংগে তাঁর গুণমুগ্ধ হিসেবে আমিও তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করছি। সবার সংগে এক হয়ে তাঁর আত্মার মাগফেরাৎ কামনা করছি। এর সংগে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা প্রকাশ করছি।

তাঁর মৌলিক অবদানের জন্য দেশের সকল মানুষ তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

Check Also

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক-কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদ মারা গেছেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক এবং কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদ …