sliderআন্তর্জাতিক সংবাদ

সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীদের থাকতে দেয়া হবে কিনা, এ প্রশ্নে হাঙ্গেরিতে গণভোট

সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে আসা শরণার্থীদের থাকতে দেয়া হবে কিনা – এ প্রশ্নে হাঙ্গেরিতে আজ এক গণভোট হচ্ছে।
মোট ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে ভাগাভাগি করে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলছে ইইউ। এই কোটা বাধ্যতামূলক, তবে সেটা গ্রহণ করা হবে কিনা সেই প্রশ্নেই গণভোট হচ্ছে হাঙ্গেরিতে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই প্রস্তাবের ঘোর বিরোধী। তিনি বলেন, অভিবাসন ইউরোপের নিরাপত্তা এবং জীবনধারার প্রতি হুমকি।
শরণার্থীদের ব্যাপারে ইউরোপের উন্মুক্ত দুয়ার নীতির পক্ষে থাকা জার্মান চ্যান্সেলর মিস মের্কেলেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
তবে তার সমালোচকরা বলছেন, তিনি বিদেশীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মানসিকতা দেখাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে শরণার্থী ইস্যু নিয়ে পুরো ইইউ অঞ্চলেই এখন সঙ্কট চলছে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলৎজ বলেছেন, এই গণভোট করে হাঙ্গেরির সরকার ‘এক বিপজ্জনক খেলা’ খেলছে, মি. অরবান ইউরোপিয়ান আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন।
কোটা অনুযায়ী হাঙ্গেরিকে প্রায় তেরোশ’র মতো শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে হবে।
জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ৯৫ শতাংশ ভোটারই এই কোটার বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছেন। তবে এই গণভোটের ফলাফল গ্রহণযোগ্য হতে হলে ভোটের হার হতে হবে ৫০ শতাংশের বেশি।
শরণার্থীরা যখন সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আসতে শুরু করে তখন হাঙ্গেরি হয়ে ওঠে একটি ট্রানজিট দেশ। অর্থাৎ হাঙ্গেরির ভেতর দিয়ে তারা পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে জার্মানি অভিমুখে আসতে শুরু করে।
তাদের ঠেকাতে সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার সাথে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় হাঙ্গেরি।
এই পদক্ষেপ দেশের ভেতরে জনপ্রিয় হলেও মানবাধিকার গ্রুপগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার বিপক্ষে। তার ভাষায়, যতো বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া হবে দেশটিতে সন্ত্রাসের ঝুঁকি ততোই বাড়বে।
তিনি মনে করেন এর ফলে ইউরোপের খ্রীস্টান সংস্কৃতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তার প্রস্তাব হচ্ছে, লিবিয়ায় বড় একটি শিবির স্থাপন করে সেখানে সব শরণার্থীকে রাখতে হবে। সেখানে থেকেই তারা ইউরোপে আসার আবেদন করতে পারবেন।
হাঙ্গেরিতে এমন এক সময়ে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নে এই গণভোট হচ্ছে, যার কিছুদিন আগেই ব্রিটেনে এক গণভোটে ভোটাররা ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে।
এই গণভোটেও অভিবাসন ছিলো বড় একটি ইস্যু। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button