সিংগাইর পৌর নির্বাচন দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ, নিরব বিএনপি

সিরাজুল ইসলাম,সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)ঃ পঞ্চম দফায় অনুষ্ঠিয় পৌর নির্বাচনে মানিকগঞ্জের
সিংগাইর পৌরসভায় আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন। সেই লক্ষ্যে মেয়র পদপ্রার্থী
আওয়ামীলীগ মনোনীত আবু নাঈম মোঃ বাশার ও বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট খোরশেদ
আলম ভূইয়া জয় মাঠে নেমেছেন। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি সংরক্ষিত ৯ নারী কাউন্সিলর ও ২৭
জন পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিক পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ পৌরসভায় মোট ভোটার ২২ হাজার ৬০৩। এর মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৭৫ ও নারী ভোটার ১১ হাজার ৫২৮ জন।

পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর বিগত তিনটি নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী প্রথমবার আওয়ামীলীগ ও পরপর দুইবার বিএনপি প্রার্থী জয় লাভ করেন। বিএনপি চাচ্ছেন কুটকৌশলে এবারও মেয়রের চেয়ারটি ধরে রাখতে। অপরদিকে, আওয়ামীলীগ বিগত সময়ের নির্বাচনের বিভেদ ভুলে গিয়ে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছেন। যে করেই হোক পৌর পিতার এ আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া। বিগত দিনের নির্বাচনে কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন দলটি। গত দুইটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাদের মেয়র পদটি হাত ছাড়া হয়। এবার দলীয় কোন্দল মিটানোর পাশাপাশি পৌর এলাকার আওয়ামীলীগ অধ্যুষিত পূর্ব এলাকা থেকে কোনো প্রার্থী হয়নি। বিজয় ঠেকাতে গলার কাঁটা নামক বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে আওয়ামীলীগ। মূল দলের সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা দলীয় প্রার্থী আবু নাঈম মোঃ বাশারকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে কাজ করছেন। দলীয় প্রার্থী বাশার বিগত নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকেও সে পৌরবাসীর খোঁজ খবর রেখেছেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বাড়তি সুবিধা প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা বাউল স¤্রাট আব্দুর রশিদ সরকারের পুত্র। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি সিংগাইর ডিগ্রী কলেজের ছাত্রলীগ প্যানেলের এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে আবু নাঈম মোঃ বাশার উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য। মহামারি করোনা কালীন সময়ের শুরু থেকে পৌর এলাকার হত দরিদ্রদের ঘরে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের পাশাপাশি সকল পরিবারে পৌছে দিয়েছেন মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ক্ষমতাসীন দলটি যেমন চাচ্ছেন পৌর মেয়রের চেয়ারটি বাশারকে দিয়েই উদ্ধার করতে তেমনি পৌরবাসীর কাছে বাশারই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এ প্রসঙ্গে আবু নাঈম মোঃ বাশার বলেন, সারাদেশে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। সিংগাইর পৌরসভায় সে উন্নয়নের জন্য আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়া একান্তভাবে প্রয়োজন। সে চিন্তা করে পৌরবাসী আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করবেন। আমি নির্বাচিত হলে এ পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভায় রুপান্তরিত করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবো।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, বিগত নির্বাচনে নৌকার ভোট বেশী থাকা সত্ত্বেও দু’জন প্রার্থী থাকায় বিজয় সম্ভব হয়নি। এবার একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইলেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে। যাতে বিজয় সুনিশ্চিত হয়।

এদিকে, দলীয় কোন্দল, রাস্তাঘাট ও পৌরবাসীর কাঙ্খিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে অনেকটাই কোনঠাসায় পরপর দুইবারের নির্বাচিত মেয়র বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া জয়। নির্বাচনী মাঠে তাকে ছাড়া দলীয় তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না। পৌরবাসীর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আমলে প্রত্যন্ত পল্লীসহ সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও সিংগাইর পৌরসভায় কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। দু’বার নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও পৌরসদরের গুরত্বপূর্ন কলেজ রোডটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পৌর এলাকা অপরিচ্ছনতার কারণে জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে বর্তমান মেয়রের। যে কারণে পৌরসভার এ মেয়র পদটি হাত ছাড়া হতে পারে বলে পৌরবাসীর অভিমত।

এ ব্যাপারে বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া জয় কলেজ রোড ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, ইতিমধ্যে ড্রেনেজের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিএনপির নেতা কর্মীরা কৌশল অবলম্বন করে ভোটের মাঠে আছেন। পৌরবাসীর বিচার বিবেচনায় পূনরায় মেয়র নির্বাচিত হবেন বলে জয় আশাবাদী।

উল্লেখ্য,২০০১ সালে সিংগাইরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হলে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সে সময়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ কামরুন্নাহার। ২০০২ সালে ৩০ জুন সিংগাইর পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মাত্র ২৯ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মীর মোঃ শাহজাহান বিএনপি প্রার্থী প্রয়াত দেওয়ান মোজহারুল হক মহরকে পরাজিত করে প্রথম পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তারপর ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া (জয়) ৬ হাজার ১৭৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মীর মোঃ শাহজাহান পান ৫ হাজার ৬৩৬ ভোট। তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত এমএম আলমগীর হোসেন। এর পর সরাসরি দলীয় প্রতীকে ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া (জয়) ৬ হাজার ৮৭৬ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মীর মোঃ শাহজাহান পান ৪ হাজার ৫১০ ভোট। আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের আবু নাঈম মোঃ বাশার পান ৩ হাজার ৩৭৯ ভোট।

Check Also

ফতুল্লায় কাপড়ের মার্কেটে আগুন, কয়েক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা লঞ্চ ঘাটের বিপরীতে একটি কাপড়ের মার্কেটে বুধবার সকালে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। আগুনে পুড়ে …