sliderরাজনীতিশিরোনাম

সহিংসতা ও আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর মূল হোতা আ’লীগ : রিজভী

পতাকা ডেস্ক : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘কেবল বাংলাদেশ নয়, এখন গোটা পৃথিবীবাসী জানেন যে আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানো, ট্রেনে আগুন, ট্রেন লাইন উপড়ানো, সহিংসতা, গান পাউডার দিয়ে, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার মূল হোতা আওয়ামী লীগ।’

শনিবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে আগামীকাল ৭ জানুয়ারি আরো একটি একতরফা পাতানো নির্বাচনের সবচেয়ে অন্ধকারময়-তিমিরাচ্ছন্ন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। আজ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এক গভীর ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। অভিনব মডেলের ডামি নির্বাচনী নাটকের মাধ্যমে অবৈধভাবে গত ১৫ বছরের মতো আবারো ক্ষমতায় থাকতে এক বিপজ্জনক খেলার আয়োজন করা হয়েছে। আবারো প্রতারণার জাল বিছানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও তাদের দলদাস রাষ্ট্রযন্ত্র শুধু দেশের মানুষকেই অগ্রাহ্য করেনি, তাদেরকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিতই করেনি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক বিশ্বকে উপেক্ষা করে প্রকাশ্য তথাকথিত ভোট রঙ্গ বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর বিপদের অতলে। ইতোমধ্যে এই তামাশার নির্বাচন বিশ্বব্যাপী প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।’

বিশ্ব মিডিয়া এই নির্বাচনকে ‘একনায়কতন্ত্র-রাজতন্ত্রে আরোহনের প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছে এমন দাবি করে রিজভী বলেন, “তবুও নির্লজ্জভাবে সরকার অন্ধ ক্ষমতালিপ্সার কারণে গণতন্ত্রকামী বিশ্বকে প্রদর্শনের জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগে জবরদস্তিমূলকভাবে ভোটার উপস্থিতি দেখানোর জন্য ‘আমি আর ডামি’র তামাশার খেলায় মত্ত রয়েছে।”

তিনি বলেন, ‘বানরের পিঠা ভাগের’ পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের ভোটে নিজেরা হত্যা, হানাহানি, সংঘর্ষ, গোলাগুলি করছে। অপরদিকে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জেলে পুরে, বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-উপার্জন বন্ধ করে এলাকাছাড়া-ফেরারি জীবনে নিক্ষেপ করে, জনগণকে জিম্মি দশায় রেখে, হুমকি-ধামকি দিয়ে গোটা দেশকে নরকপুরিতে পরিণত করেছে। সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা প্রমাণ করে কী ধরনের নির্বাচনী তামাশা মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে কাল।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে যারা আপনাকে গত ১৫ বছর অধিকারবঞ্চিত রেখেছে, তাদেরকে আপনি ৭ জানুয়ারি রোববার অন্তত এক দিন বয়কট করুন। বিশ্বাস রাখুন, আপনার এই এক দিনের সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী সরকারের কবর রচিত হবে ইনশাআল্লাহ। স্বাধীনতার সম্মান-গৌরব-মর্যাদা ফিরে পাবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকা।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পাতানো নির্বাচনের জন্য দেশটাকে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি বানিয়ে ফেলেছে। দেশকে এভাবে মৃত্যু উপত্যকা ও জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ বানানো হয়েছে। এই সরকার নিরীহ মানুষের জীবন নিয়ে পৈশাচিক খেলায় মেতেছে। গতকাল রাতে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের নৃশংসতম বর্বরোচিত ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরই বিএনপির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। প্রকৃত দোষীদের আটক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নবী উল্লাহ নবীসহ ছয়জনকে তুলে নিয়ে গেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এখন তাদেরকে নৃশংস নির্যাতন করে ট্রেনে আগুন লাগানোর দোষ চাপাচ্ছে বিএনপির ওপর। প্রতিটি নাশকতার ঘটনার পর বিএনপির ওপর দোষ চাপানো আওয়ামী লীগ ও তাদের দলীয় পুলিশ প্রশাসনের মজ্জাগত হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাতে বিএনপিসহ বিরোধীদের ওপর দায় চাপিয়ে বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে সহিংস হিসেবে দেখাতে পারে।’

‘কেবল বাংলাদেশ নয়, এখন গোটা পৃথিবীবাসী জানেন যে আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানো, ট্রেনে আগুন দেয়া, ট্রেন লাইন উপড়ানো, সহিংসতা, গান পাউডার দিয়ে, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার মূল হোতা আওয়ামী লীগ। এবারো তামাশার নির্বাচন কণ্টকমুক্ত রাখতে, একদফার সংগ্রাম বানচাল করতে আগুনসন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যেমনটা তারা ১৯৯৬, ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে করেছে, বিভিন্ন সময় যেমন করেছে। প্রায় প্রতিটি আগুন সন্ত্রাসের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও রাষ্ট্রশক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। কোনোটা প্রকাশ হচ্ছে কোনোটা ঢাকা দিচ্ছে পুলিশ,’ বলেন রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘গত রাতে ট্রেনে আগুনের ঘটনা ওবায়দুল কাদেরের গুপ্তহত্যা-নাশকতার আগাম বক্তৃতার বাস্তবায়ন কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহের উদ্রেক করেছে। কয়েকদিন আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, বিএনপি নাকি গুপ্ত হত্যা ঘটাতে এজেন্ট ঠিক করেছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button