sliderস্থানীয়

শার্শা থানার এস আই সিরাজের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

জাহিদ হাসান : যশোরের জেলার শার্শা থানার এস আই সিরাজুল ইসলামের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ। আর এ ঘুষ বাণিজ্যের ফাঁদে পড়েছেন বেনাপোল ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী গ্রামের ইজিবাইক চালক মাহাবুর রহমান। এ থানায় ঘুষ বাণিজ্যের আর এক নাম এস আই সিরাজ ।

গত ১১ তারিখ (বুধবার) রাতে বেনাপোল পোড়াবাড়ি গ্রামের ইজিবাইক চালক মাহাবুর (৩৫) যাত্রী নিয়ে নাভারণ বাজারে গেলে। বাজারের সামনে ইজিবাইকটি রেখে শীতের কাপড় কিনতে মার্কেটের মধ্যে গেলে ফিরে এসে দেখেন যথা স্থানে একমাত্র আয়ের মাধ্যম তার ইজিবাইক নেই “বাইকটি চুরি হয়ে গেছে”। কোন পথ না পেয়ে শার্শা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ইজিবাইক চোর যশোরে ব্যাটারী বিক্রি করতে গেলে সেখানের লোক মারফত চাঁচড়া পুলিশ ইজি বাইকের ব্যাটারী সহ ১ চোরকে আটক করে শার্শা থানায় হস্তান্তর করে। শার্শা থানা পুলিশ চোরকে নিয়ে মাহাবুরের চুরি যাওয়া ইজিবাকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে শার্শা থানার এস আই সিরাজ ইজিবাইক চালক মাহাবুরকে মোবাইল ফোনে চুরি যাওয়া ইজিবাইকের কাগজপত্র সহ সকালে থানায় আসতে বলে কিন্তু দরিদ্র ইজিবাইক চালক মাহাবুর পুরানো ইজিবাইক ক্রয় করায় কাগজ তার নামে না থাকায় এস আই সিরাজ জানায় এই কাগজে কোন কাজ হবে না। যদি ইজিবাইক নিতে চাস ১০ হাজার হাজার টাকা দিতে হবে। মাহাবুর কোন পথ না পেয়ে এস আই সিরাজের হাতে পায়ে ধরে ০৫ হাজার টাকা দেই এবং তার নিকট থেকে কাগজ নিয়ে বিজ্ঞ আদালত থেকে অর্ডার নিয়ে এসে এস আই সিরাজের নিকট আসলে, সিরাজ জানায় কাগজে ওসির সই নিতে দুই হাজার টাকা লাগবে। তাছাড়া ওসি সই করবে না কাগজে। কোন উপরন্ত না পেয়ে ইজিবাইক চালক মাহাবুর আবারও হাতে পায়ে ধরে এস আই সিরাজকে এক হাজার টাকা দিয়ে কাগজে সই নিয়ে ইজিবাইক ফিরে পায়।

এ বিষয়ে ইজিবাইক চালক মাহাবুর জানান, দারিদ্রের কষাঘাতে সংসার চালাতে না পেরে গ্রামের দুই ভায়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাওলাদ ও সমিতি তুলে চুরি যাওয়া এই ইজবাইকটি ক্রয় করি। কিন্তু নাভারণ বাজার থেকে ইজিবাইক চুরি হওয়ার পর পারিবারিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ি। পরে শার্শা থানার পুলিশের মাধ্যমে ইজিবাইক ফিরে পেতে গিয়ে আমি যে টাকা এস আই সিরাজকে দিয়েছি সেটাও পরের নিকট থেকে হাওলাদ করে নিয়েছি। আমি দরিদ্র মানুষ ইজিবাইক ফিরে পেয়েছি এটাই অনেক।

শার্শা থানার এস আই সিরাজের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শার্শা থানায় যোগদানের পর থেকেই সে ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে শার্শা থানায় দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি না থাকায় সে ব্যাপক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। টাকা ছাড়া তিনি কোন কাজই করেন না। এছাড়া তিনি সাধারন মানুষকে বলে বেড়ান উর্দ্ধতনকে ম্যানেজ করেই কাজ করতে হয়, টাকা ছাড়া কাজ করব কিভাবে।

ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে এস আই সিরাজকে মুঠো ফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ইজিবাইক চালকের নিকট থেকে আমি কোন টাকা নেইনি, ঘটনাটি মিথ্যা।

এ বিষয়ে শার্শা থানার তদন্ত ওসি আকিকুর রহামান আকিক জানান, এস আই সিরাজের ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই তবে আমি বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Related Articles

Back to top button