sliderস্থানীয়

লোকায়ত জ্ঞান অন্বেষণে হাটতে হাটতে প্রকৃতিকে ফিরে দেখা

মো.নজরুল ইসলাম : “লোকায়ত জ্ঞান চর্চা করি,প্রাকৃতিক উৎস সুরক্ষা করি” হাজার বছরের লোকায়ত প্রাণসম্পদে ভরপুর আমাদের এই গ্রামীণ জনপদ। এই জনপদে মানুষ ও প্রকৃতির প্রকৃত মেলাবন্ধনে ফুটে ওঠে শস্য ফুল ও ফল। ধলেশ্বরী নদীর তীরে আমাদের প্রাণের মানিকগঞ্জের জন্ম হলেও পদ্মা যমুনার মোহনা, কালিগঙ্গা, ইছামতি, মন্দা, নুরানীগঙ্গা, ক্ষিরাই, কান্তাবতীসহ অসংখ্য নদী নালা খালা বিলে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ছিল আমাদের এই অঞ্চল। বৈশি্বক পুজিবাদী অর্থব্যবস্থায় শিল্প বিপ্লব পরবর্তী আধুনিক কৃষি বিপ্লবকে তরান্বিত করতে আমদানি করা হয়েছিল হাইব্রিড জাতরে অধিক উৎপাদনশীল বীজ ও দ্রæত বৃদ্ধিতে প্রয়োগ করা হয়েছিল সার বীষ কিটনাশকসহ প্রাণ প্রকৃতির ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। আগ্রাসী রাসায়নিক হাইব্রিড তত্ত¦ধারীরা হয়তো জীবিত নেই তবে তাদের উত্তরসূরীরা এখন প্রকৃতির কাছে হার মানছে এবং আধুনিক ও সনাতন ধারা সমন্বয় করে জৈব বালাইনাশক পদ্বথি ব্যবহার করে মানব প্রকৃতিকে সুরক্ষার কথা বলছেন।
যাহোকা আমরা প্রকৃতির সন্তান, আমাদের শরীরে কাদা মাটির গন্ধ তাই আমরা প্রকৃতির প্রাণসম্পদ ফিরে পেতে আমরণ লড়াই করে যাব। তারই ধারাবাহিকথায় প্রতি বছরের মতো এবারও গতকাল ৪ জানুয়ারী ২০২৩ মানিকগঞ্জের একদল প্রথিক হাটা দিবসের প্রথিকদল নামে মানিকগঞ্জ বিজয় মেলা মাঠ থেকে সকাল দশটা থেকে ঘিওর অঞ্চলের তরা, জাবরা, নকিববাড়ী আশাপুর, বালিয়াবাধা, সিংজুরী, নাটোয়াবাড়ী হয়ে তিল্লী পারতিল্লী আয়নাপুর, গড়পাড়া হয়ে সাটুরিয়া হরগজ দিয়ে শহওে প্রবেশের পরিকল্পনা নিয়ে হাটা দিবসের যাত্রা শুরু করেন।
হাটা দিবসের উদ্ভোধনী পর্বে শুভ উদ্ভোধন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা গুরু আল্লামা অনীশ আজাহার। দিক নির্দেশনামূলক কথা বলেন টিম লিডার পালের গোদা শাহাদাত হোসেন সাইজি মাস্টার, কো টিম লিডার প্রভাাষক সাইফুল ইসলাম বক্স দিপু সংগঠনের অন্যতম সদস্য প্রফেসর মুকুল স্যার, ওস্তাদ ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম মিঠু, চিত্রশিল্পী সোহাস শাহ আলম, উন্নয়নকমী ও লেখক মো.নজরুল ইসলাম, মো কামরুল মাস্টার, অঞ্জন মৃধা প্রমুখ।
পথে পথে দেখা ও আলোচনায় প্রকৃতিকে ফিরে পেতে চাই। সকালে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যন্ড থেকে গাড়িতে জাবরা বাজারে যাই। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় ভয়ঙ্গকরভাবে বৃদ্ধির ফলে গত ১৫ বছরে ২ টাকার ভাড়া ২০ টাকা হওয়াতে সাধারন যাত্রীরা হয়রানি হচ্ছে। রাস্তা ঘাটে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে, গ্রাম শহরের বৈষম্য হ্রাস পেয়েছে। কৃষি কৃষকের হাতে নেই এবং বেশিরভাগ জমি ক্ষেতমজুরদের কাছে বন্ধক দেয়া আছে। তারা একই জমিতে প্রতি বছর অধিক মুনাফার লোভে তামাক ও ভুট্রা চাষে বেশি মনযোগী হচ্ছে। গ্রামের মানুষও শহরের সাথে পাল্লা দিয়ে সিলিন্ডার গ্যাস, বিদ্যুৎ, প্রেসার কুকার, ওভেনসহ আয়েসী জীবন যাপন করতে প্রতিযোগীতা করছে। বেশিরভাগ মানুষ জ¦ালানি সংকট তারা মানতে নারাজ এবং বিকল্প জ¦ালানির দিকে আগ্রহ নেই। মোরে মোরে দোকান, চা স্টল এবং বহুজাতিক কোম্পানির পন্যে সয়লাব হয়েছে গ্রামীণ জনপদ। হাতে ভাজা মুড়ি, পাটার বাটা মসলা দিয়ে আগুনের রান্না এখন হ্রাস পাচ্ছে। বিপরীতে নানা ধরনের অসুখ বিসুখ ও সংকটও আছে। কেবল ওষুধ দিয়ে নয় প্রকৃতির সহজ পথে হেটে এগুলো মোকাবিলা করে আমরা প্রাণসম্পদে ভরপুর একটি নতুন পৃথিবী দেখতে চাই।

Related Articles

Back to top button